প্রতিযোগিতামূলক ফলাফলের ঊর্ধ্বে ফুটবলে সম্মান, শ্রদ্ধা ও সততার মূল্যবোধকে তুলে ধরেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। মিসরের বিপক্ষে ড্রয়ের পর সিয়াটলের স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে সবার উদ্দেশে একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে যায় দলটি।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশ করা সেই চিঠিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ খেলা, ক্রীড়াসুলভ মনোভাব এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। চিঠিতে লেখা ছিল, পয়েন্ট অনেকভাবেই অর্জন করা যায়, কিন্তু সম্মান নয়। পাশাপাশি ফুটবলকে কেবল ফলাফলের প্রতিযোগিতা নয়, বরং চরিত্র ও নৈতিকতার পরীক্ষাও হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পয়েন্ট বিভিন্নভাবে অর্জন করা সম্ভব হলেও প্রকৃত সম্মান আসে আচরণ, সততা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে। ফেয়ার প্লেকে খেলার প্রাণ হিসেবে উল্লেখ করে ইরান দল জানায়, মাঠের ভেতর ও বাইরে মর্যাদা বজায় রাখাই একজন ক্রীড়াবিদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
চিঠির সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল লাল কালিতে লেখা কয়েকটি লাইন। সেখানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রথম দিনে মিনাব শহরের একটি স্কুলে সংঘটিত প্রাণঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করা হয়। ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
জাতীয় পরিচয় ও মূল্যবোধের বিষয়টিও উঠে এসেছে বার্তায়। ইরান লিখেছে, তাদের ইতিহাসে জয়ের চেয়ে সম্মানকে সবসময় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত সাফল্য কেবল টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মাঠ ও মাঠের বাইরে নৈতিকতা, মর্যাদা ও মানবিক আচরণ বজায় রাখার মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
এর আগে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছিল ইরান। কয়েক মাস ধরে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা দিয়ে আসছে দলটি।
এদিকে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে এখনও সম্ভাবনা রয়েছে ইরানের। আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে যেকোনো একটি দলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ঘানা যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারায় অথবা কঙ্গো যদি উজবেকিস্তানের কাছে হেরে যায়, তাহলে রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করবে ইরান।
আরটিভি/এসকে



