ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে অ্যালকোহল, জুয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে নিজেকে দূরে রাখার নীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অটল রয়েছেন। লোভনীয় আর্থিক প্রস্তাব পেলেও তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় অংশ নেন না। তরুণ প্রজন্মের সামনে ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করাই তার এই অবস্থানের অন্যতম কারণ বলে বিভিন্ন সময়ে জানা গেছে।
ইসলামে অ্যালকোহল ও জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় অনেক মুসলিম ফুটবলার এসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখেন। বড় টুর্নামেন্টে ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময়ও অনেক মুসলিম খেলোয়াড়ের পেছনে থাকা অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের লোগো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের নীতিগত অবস্থান দেখা গেছে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কিলিয়ান এমবাপের ক্ষেত্রেও।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এমবাপে কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড, জুয়া বা অ্যালকোহল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও ইতিবাচক সামাজিক বার্তা প্রচার করে—এমন ব্র্যান্ডের সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী। নিজের ইমেজ রাইটস ও বাণিজ্যিক চুক্তির ওপরও তিনি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। ফলে কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হবেন, আর কোনটি এড়িয়ে চলবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি নিজের নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই নেন।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও এমবাপে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল অ্যালকোহল স্পনসরের প্রচারণায় অংশ নেননি। ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময়ও প্রচলিত অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের লোগোর পরিবর্তে ‘Superior Player of the Match’ ডিজাইন ও ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করা হয়।
এটি অবশ্য প্রথমবারের ঘটনা নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময় স্পনসর প্রতিষ্ঠানের লোগো আড়াল করার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সে সময়ও নিজের নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসেননি এমবাপে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়োজনে জরিমানার ঝুঁকি নিতেও তিনি প্রস্তুত ছিলেন।
তবে উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপসংক্রান্ত এই দাবিগুলোর বিষয়ে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট আয়োজক বা নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা উচিত। কারণ ভবিষ্যৎ বা চলমান টুর্নামেন্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেক সময় যাচাইবিহীন তথ্যও প্রচারিত হয়ে থাকে।
আরটিভি/এসকে



