বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া। আর সেই এক মুহূর্তের ভুলের খেসারত হিসেবে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড হামিন্তন কাম্পাজ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনে সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই ফুটবলার।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় কাম্পাজ লিখেছেন, ফুটবলে কঠিন মুহূর্ত আসে। প্রিয় কলম্বিয়া, দয়া করে কখনো শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলবেন না। আমাদের মতামত ভিন্ন হতে পারে কিংবা হতাশা ও দুঃখ অনুভব করতে পারি, কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা ভয়ে বেঁচে থাকাকে যৌক্তিকতা দেয় না।
ঘটনাটি সামনে আসার পর কাম্পাজের পাশে দাঁড়িয়েছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে তারা হুমকিদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে তদন্তের দাবি জানায়।
ফেডারেশনের ভাষ্য, দেশের হয়ে খেলার কারণে কোনো খেলোয়াড় বা তার পরিবার-পরিজনকে ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফুটবল হওয়া উচিত ঐক্য, সম্মান ও আশার জায়গা কখনোই ঘৃণা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার পরিবেশ নয়।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের ১১৫তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি পেয়েছিলেন কাম্পাজ। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বল বারের ওপর দিয়ে মেরে বসেন। পরে ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে নিজের শটে গোল করলেও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পাশাপাশি মৃত্যুর হুমকিরও মুখে পড়েন কাম্পাজ।
ঘটনাটি অনেকের মনে ফিরিয়ে এনেছে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই মর্মান্তিক অধ্যায়। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দেশে ফিরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
কাম্পাজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিল ফুটবল আবেগের খেলা হলেও সেই আবেগ কখনোই সহিংসতা বা প্রাণনাশের হুমকিতে রূপ নেওয়া উচিত নয়।
আরটিভি/এসকে



