এ ঋণ শোধ হবার নয়

জাকির হোসাইন

রোববার, ২৬ মার্চ ২০১৭ , ১২:০৯ এএম


এ ঋণ শোধ হবার নয়

২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালির দীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের সূচনার কাল। ১৯৭১ সালের এ দিন থেকে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে জাতি।

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির ওপর (পূর্ব পাকিস্তানের) যে শোষণ এবং আগ্রাসন চালিয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধিকারের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিলেন বাঙালিরা। দেশ বিভাগের পর থেকে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রেই বৈষম্য তৈরি করে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা। বাঙালিকে বার বার চেষ্টা করেছে ধাবিয়ে রাখতে। তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে। কিন্তু অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেয়নি এ জাতি।

সবশেষ বাঙালি জাতিকে নিঃশেষ করে দিতে পাকিস্তানিরা মেতে ওঠে হত্যাযজ্ঞে। এর চূড়ান্ত আঘাতহানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে। বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকায় বাঙালি হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। গভীর রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে বন্দি করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

এর আগেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ইপিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ওয়্যারলেস থেকে তাঁর এই ঘোষণা প্রচারিত হয়েছিল।

৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ৫৬’র সংবিধান প্রণয়নের আন্দোলন, ৫৮’র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ৬৬’র বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফার আন্দোলন, ৬৯’র রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থানের পথ পেরিয়ে ৭০’র ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সবই বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের একেকটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের মাইলফলক।

এরপর ৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালিকে মুক্তির পথ দেখায়। জাতি দেখতে পায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রূপরেখা।

২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকহানাদার বাহিনী। নির্বিচারে হত্যা করে সাধারণ মানুষদের।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বন্দির পূর্ব মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে বাঙালির চূড়ান্ত মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয় পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীকে।

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে, অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্যদিয়ে বিশ্বের বুকে স্থান পায় একটি দেশ, একটি মানচিত্র, একটি পতাকা। এ আমার বাংলাদেশ।

এ বছর আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জাতি এমন একটি প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে যেখানে একাত্তরে সেই পরাজিত শক্তি, প্রথম কাতারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে।

জাতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী দেশের বীর সন্তানদের। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে স্বাধীনতার রূপকার বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তোমাদের এর ঋণ শোধ হবে না। এ ঋণ শোধ হবার নয়। কারণ তোমরাই দিয়ে গেছো এ দেশে। বিশ্বের বুকে এ জাতির পরিচয়।

জেএইচ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission