মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আকাশে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য এ বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণ চলাকালে চাঁদ ধারণ করবে তামাটে-লাল আভা, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আবার দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত।
গ্রহণের সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড: চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণের সূচনা বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড: পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু, বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ড: কেন্দ্রীয় গ্রহণের সময়, গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা: ১.১১৫। রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড: উপচ্ছায়া থেকে চাঁদের বেরিয়ে আসার মধ্য দিয়ে গ্রহণ সমাপ্ত। বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর গ্রহণের শেষাংশ দেখা যাবে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত।
বিভাগীয় শহরভিত্তিক চন্দ্রগ্রহণের সময়
ঢাকা: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ১২ সেকেন্ড, চট্টগ্রাম: বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড, সিলেট: বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, রাজশাহী: সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড, খুলনা: সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড,বরিশাল: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড, ময়মনসিংহ: সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড, রংপুর: সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়। ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে প্রতিসরিত সূর্যালোর একটি অংশ চাঁদের ওপর পড়ে।
বায়ুমণ্ডল নীল রঙের ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি বিচ্ছুরিত করে এবং লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। ফলে গ্রহণের সময় চাঁদ তামাটে বা লালচে দেখায়। একই কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়।
গ্রহণের কেন্দ্রীয় গতিপথ থাকবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে। এছাড়া কিমম্যান রিফ জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হুল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং ফিলিপাইন সাগর অঞ্চলের মাইক্রোনেশিয়ার কোসরাই দ্বীপ ও লুগাও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ থেকেও এটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খালি চোখেই উপভোগ করা যাবে এই বিরল ‘ব্লাড মুন’।
আরটিভি/এসকে





