চাঁদ বা মঙ্গলে মানুষের জীবন কেমন হতে পারে, তা বাস্তবের কাছাকাছি পরিবেশে পরীক্ষা করতে এক বছরের বিশেষ গবেষণা কর্মসূচির জন্য স্বেচ্ছাসেবী খুঁজছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে নাসা জানায়, চারজন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করা হবে। কর্মসূচিটি ২০২৭ সালের আগস্টের আগে শুরু হবে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন মহাকাশ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের চাঁদ ও মঙ্গলে বসবাসের মতো পরিবেশে সীমিত জায়গায় থাকতে হবে। সেখানে তারা ফসল উৎপাদন, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, মহাকাশে হাঁটার অনুশীলন এবং মহাকাশচারীদের মতো বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।
নাসার ভাষ্য, ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানে মহাকাশচারীরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন, এই গবেষণার মাধ্যমে সেসব বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি মঙ্গলের সময় অনুযায়ী জীবনযাপনের সঙ্গে মানুষ কতটা মানিয়ে নিতে পারেন, তাও পরীক্ষা করা হবে। কারণ, মঙ্গলের একটি দিন পৃথিবীর দিনের তুলনায় প্রায় ৪০ মিনিট বেশি দীর্ঘ।
আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বয়স ৩০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হতে হবে, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে এর বাইরে থাকা ব্যক্তিদেরও বিবেচনা করা হতে পারে। উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চির বেশি হওয়া যাবে না এবং ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে।
অংশগ্রহণকারীদের মোট ১৪ মাস সময় দিতে হবে। এর মধ্যে ১২ মাস গবেষণার জন্য নির্ধারিত দুটি সীমিত আবাসস্থলে থাকতে হবে এবং বাকি দুই মাস প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির জন্য ব্যয় হবে।
নাসা জানিয়েছে, আবেদনকারীদের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। খাদ্যসংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ থাকা যাবে না। ঘুমের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস বা ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের ইতিহাস থাকলেও আবেদন করা যাবে না।
এছাড়া প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান বা গণিত বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। উচ্চতর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ডিগ্রি কিংবা সামরিক বাহিনীর অভিজ্ঞতাও যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গবেষণাটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে স্বেচ্ছাসেবীরা মহাকাশযানের আদলে তৈরি একটি সীমিত আবাসে থাকবেন, যেখানে পৃথিবী থেকে চাঁদ বা মঙ্গলে যাত্রার অভিজ্ঞতা তৈরি করা হবে।
এরপর তারা আরেকটি গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে মঙ্গলের পৃষ্ঠে বসবাসের অনুশীলন করবেন। সেখানে নিজেরাই ফসল উৎপাদন, স্বাস্থ্য রক্ষা এবং মহাকাশে হাঁটার অনুশীলন করবেন। শেষ ধাপে একই মহাকাশযানের আদলে তৈরি পরিবেশে পৃথিবীতে ফেরার অভিজ্ঞতা দেওয়া হবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, এর আগে তারা ২৮টি মহাকাশযাত্রা অনুকরণ গবেষণা এবং দুটি মঙ্গলপৃষ্ঠে বসবাসসংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা করেছে। তবে এবারই প্রথম যাত্রা ও মঙ্গলে বসবাস—দুই ধরনের অভিজ্ঞতা একই কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে।
এর আগে একই ধরনের এক বছরের গবেষণায় অংশ নেওয়া চিকিৎসক নাথান জোন্স জানান, পরিবারের কাছ থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা ছিল সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে এই গবেষণা শেষে তিনি জীবনের ছোট ছোট বিষয়—যেমন সূর্যের আলো, বাতাস ও টাটকা খাবারের মূল্য নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন।
আরটিভি/জেএমএ



