দীর্ঘ ৩৯ বছর পর পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলো দার্জিলিং হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের (ডিএইচএমআই) ঐতিহ্যবাহী ট্রেকিং রুট। দার্জিলিং শহরের চৌরাস্তা থেকে রাগেরুং চা বাগান পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক রুটটি সম্প্রতি ‘মেলো টি ফেস্টিভ্যাল’-এর ব্যানারে একদল পর্বতারোহীর পদযাত্রার মাধ্যমে উন্মুক্ত করা হয়। এই পদযাত্রার পর থেকেই ওই রুটে পর্যটকদের ট্রেকিং শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় এই রাগেরুং ট্রেকিং রুটটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন ধরে রাগেরুং হোম স্টে অর্গানাইজেশন এবং রাগেরুং চা বাগান কর্তৃপক্ষ রুটটি চালু করার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেও সফল হননি।
পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) দার্জিলিং পাহাড়ের বিভিন্ন পুরাতন জায়গাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই দার্জিলিং থেকে রাগেরুং ট্রেকিং রুটটি পুনরায় চালু করা হলো।
গত শনিবার দার্জিলিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘মেলো টি ফেস্টিভ্যাল’-এর ব্যানারে জিটিএ-র পর্যটন বিভাগ ‘ডি-হাইক’ নামে একটি হাইকিংয়ের আয়োজন করে। এই ডি-হাইকটি চৌরাস্তা থেকে রাগেরুং পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার হাঁটা পথ অতিক্রম করে।
রাগেরুং হোম স্টে ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেরিং শেরপা জানান, এই মনোরম ও শান্তিপূর্ণ জায়গায় ২২টি হোম স্টে রয়েছে, যা ২০১১ সালে শুরু হয়েছিল। পর্যটকদের চৌরাস্তা থেকে রুংডুং খোলা হয়ে ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর রাগেরুং পৌঁছনো সম্ভব।
ঐতিহাসিকভাবে, এই রাস্তাটি দার্জিলিং হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ১৯৮৬ সালের আন্দোলনের জেরে তা বন্ধ হয়ে যায়।
হোম স্টে ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরও জানান, ডিএইচএমআইকে রাস্তাটি চালু করার জন্য অনুরোধ করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে জিটিএ ঘোষণা করেছিল তেনজিং নোরগের জন্মবার্ষিকীতে এই রুট খোলা হবে।
অবশেষে এবছর দার্জিলিং মেলো টি ফেস্টের ব্যানারে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হলো। উদ্বোধনের দিন প্রায় ২৫০ জন পর্বতারোহী এই পদযাত্রায় অংশ নেন। এই উদ্যোগ দার্জিলিং পাহাড়ের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরটিভি/এএইচ





