ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশে শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কোন কোন বছরে?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
ফাইল ছবি

চলছে বছরের শীতলতম মাস জানুয়ারি। দেশ জুড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হাঁড় হিম করা শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে এক অঙ্কে।

মূলত, সদ্য বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরেই দেশে আবির্ভাব ঘটেছে শীতের। পৌষের এই মাঝামাঝি সময়েই দেশজুড়ে যে মাত্রায় শীত পড়েছে, তাতে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে টানা কয়েক দিন দেশের অনেক বেশ কিছু জেলাতে অনেক বেলা পর্যন্ত মেলেনি সূর্যের দেখা। চারদিক ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। বিশেষ করে গত ২৯ ডিসেম্বর।

এমনও হয়েছে যে মাথা থেকে পা পর্যন্ত শীতের কাপড়ে মুড়িয়ে কেউ রাস্তায় হাঁটছে, কিন্তু মনে হচ্ছে নাকে-মুখে যেন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। মজার বিষয় হলো, এই বিষয়টি অনুভব করলেও চোখে দেখা যায়নি। অনেকের কাছে এটিকে তুষারপাতও মনে হয়েছে।

ইতিহাস বলছে, এবারের শীতে মানুষ যে ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এই অঞ্চলের মানুষ এর আগে আরও বেশি হাঁড় কাপানো-হিমশীতল শীতকাল দেখেছে।

আরও পড়ুন

বর্তমানে দেশজুড়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের মোট ৪৮টি আবহাওয়া স্টেশন রয়েছে। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক দেশটির জন্ম হয়। তার আগে এটি প্রথমে ব্রিটিশ ভারতের, পরবর্তীতে পাকিস্তানের অংশ ছিল।

তবে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে সেই ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় থেকে, অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড আছে।

যদিও তখন স্টেশন সংখ্যা এত বেশি ছিল না, সময়ের সাথে সাথে এগুলো বাড়িয়েছে সরকার। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ওই সময়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড থেকে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নীচে নেমেছিলো, আর তা একাধিকবার।

১৯৬৪ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন, তিন দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। চার বছরের মাথায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রার পারদ আরও নিচে নামে। ১৯৬৮ সালের চৌঠা ফেব্রুয়ারি সেখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড হয় দুই দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯৬৮ সালের রেকর্ডকে সহসা ছুঁতে পারেনি। কিন্তু ঠিক ৫০ বছর পর, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের শীত ওই রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। সে বছর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সাম্প্রতিক বছরগুলো নয় শুধু, ইতিহাসে এটিই হলো এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। ওই একই বছর উত্তরাঞ্চলের বিভাগ রংপুরের সৈয়দপুরের তাপমাত্রাও রেকর্ড ভেঙ্গেছিলো, এটি গিয়ে ঠেকেছিলো দুই দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২০১৮ সালে উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর ডিমলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট এবং দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল তিনের ঘরে। সেগুলো হলো যথাক্রমে— তিন, তিন দশমিক এক এবং তিন দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেসময় রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে তিন দশমিক পাঁচ, তিন দশমিক দুই ও তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তালিকায় আছে রাজশাহীও। ২০০৩ সালে সেখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তিন দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মাঝে অন্যতম।

উত্তরাঞ্চলেই কেন বেশি শীত?

সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বলছে, শীতকালে উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রাই সবসময় সবচেয়ে কম থাকে। এর কারণ, শৈত্যপ্রবাহ বা তাপদাহের প্রবেশদ্বার হলো বাংলাদেশের এই অঞ্চল। শীতকালে উত্তর ভারতের দিল্লি-কাশ্মীর অঞ্চল খুব ঠাণ্ডা থাকে। আর পৃথিবীর স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহের নিয়ম অনুযায়ী বাতাস পশিম থেকে পূর্ব দিকে যায়।

অর্থাৎ, ভারতের দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া বেল্ট ধরে তা বাংলাদেশে ঢোকে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের উত্তর দিক থেকে সরাসরি বাতাস ঢুকতে পারে না, হিমালয়ের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়। আর সাগরে যেহেতু তাপ আদান-প্রদান হয়। তাই, পাহাড়-সাগর এড়িয়ে হিমালয় ও উত্তর ভারতের ঠাণ্ডা বাতাস ওই মাঝামাঝি বেল্ট ধরে প্রবেশ করে। আর এই বাতাসের পথে উত্তরাঞ্চল প্রথম পড়ে বলেই সেখানে এত বেশি ঠান্ডা লাগে।

পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা বেশি হয়, যা সূর্যের আলোকে ভূপৃষ্ঠে ঢুকতে দেয় না। ফলে, দিনের বেলাতেও সেখানকার তাপমাত্রা কম থাকে।

আবার, উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ থাকায় রাতে তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়, তাই সেখানে তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হয়।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সকালের মধ্যে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে
দেশের পাঁচটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সকালের মধ্যে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে
যেসব বিভাগে বৃষ্টি-বজ্রপাতের সম্ভাবনা জানাল আবহাওয়া অফিস
দেশের তিন বিভাগে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
যেসব বিভাগে বৃষ্টি-বজ্রপাতের সম্ভাবনা জানাল আবহাওয়া অফিস
ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হতে পারে ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে ২০২৬ সাল ইতিহাসের উষ্ণতম বছরে পরিণত হতে পারে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো। একই সঙ্গে ২০২৭ সালেও তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন বুয়োনতেম্পো। তিনি বলেন, অতীতের এল নিনো ঘটনাগুলোর ধরন অনুসরণ করলে ২০২৬ সালে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে। এমনকি ২০২৭ সালেও নতুন রেকর্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াবিদরা কয়েক মাস ধরেই সতর্ক করে আসছেন, এবারের এল নিনো সম্ভবত এযাবৎকালের অন্যতম শক্তিশালী ঘটনায় পরিণত হতে পারে। বছরের শেষ দিকে এটির সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকলেও এরই মধ্যে তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের ‘নিনো ৩.৪’ অঞ্চলে গত মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ওই অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এল নিনো পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটির তথ্যমতে, এ তাপমাত্রা ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনো ঘটনাগুলোর সর্বোচ্চ তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে এবারের এল নিনো এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী কি না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনো আসেনি বলে জানিয়েছেন বুয়োনতেম্পো। তাঁর ভাষায়, জুনে শুরু হওয়া এবারের ঘটনাটি ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী’। সামগ্রিক জলবায়ু আগের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ থাকায় এর প্রভাবও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রশান্ত মহাসাগরে সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এর ফলে ২০২৭ সালও ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে। এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার ফলে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা তীব্র হতে পারে। তবে এল নিনোর প্রকৃত শক্তি ও বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর। আরটিভি/এসকে
ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হতে পারে ২০২৬
সাগরে লঘুচাপের আভাস, ৪ বিভাগে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সাগরে লঘুচাপের আভাস, ৪ বিভাগে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া
রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়া আজ প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া
আরও পড়ুন
বাংলাদেশকে হতাশ করে আফগানিস্তানের অবিশ্বাস্য ড্র
তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ
শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
৫০ অফিসার নিয়োগ দেবে শিশু হাসপাতাল