ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশে শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কোন কোন বছরে?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
ফাইল ছবি

চলছে বছরের শীতলতম মাস জানুয়ারি। দেশ জুড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হাঁড় হিম করা শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে এক অঙ্কে।

মূলত, সদ্য বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরেই দেশে আবির্ভাব ঘটেছে শীতের। পৌষের এই মাঝামাঝি সময়েই দেশজুড়ে যে মাত্রায় শীত পড়েছে, তাতে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে টানা কয়েক দিন দেশের অনেক বেশ কিছু জেলাতে অনেক বেলা পর্যন্ত মেলেনি সূর্যের দেখা। চারদিক ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। বিশেষ করে গত ২৯ ডিসেম্বর।

এমনও হয়েছে যে মাথা থেকে পা পর্যন্ত শীতের কাপড়ে মুড়িয়ে কেউ রাস্তায় হাঁটছে, কিন্তু মনে হচ্ছে নাকে-মুখে যেন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। মজার বিষয় হলো, এই বিষয়টি অনুভব করলেও চোখে দেখা যায়নি। অনেকের কাছে এটিকে তুষারপাতও মনে হয়েছে।

ইতিহাস বলছে, এবারের শীতে মানুষ যে ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এই অঞ্চলের মানুষ এর আগে আরও বেশি হাঁড় কাপানো-হিমশীতল শীতকাল দেখেছে।

আরও পড়ুন

বর্তমানে দেশজুড়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের মোট ৪৮টি আবহাওয়া স্টেশন রয়েছে। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক দেশটির জন্ম হয়। তার আগে এটি প্রথমে ব্রিটিশ ভারতের, পরবর্তীতে পাকিস্তানের অংশ ছিল।

তবে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে সেই ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় থেকে, অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড আছে।

যদিও তখন স্টেশন সংখ্যা এত বেশি ছিল না, সময়ের সাথে সাথে এগুলো বাড়িয়েছে সরকার। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ওই সময়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড থেকে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নীচে নেমেছিলো, আর তা একাধিকবার।

১৯৬৪ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন, তিন দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। চার বছরের মাথায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রার পারদ আরও নিচে নামে। ১৯৬৮ সালের চৌঠা ফেব্রুয়ারি সেখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড হয় দুই দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯৬৮ সালের রেকর্ডকে সহসা ছুঁতে পারেনি। কিন্তু ঠিক ৫০ বছর পর, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের শীত ওই রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। সে বছর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সাম্প্রতিক বছরগুলো নয় শুধু, ইতিহাসে এটিই হলো এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। ওই একই বছর উত্তরাঞ্চলের বিভাগ রংপুরের সৈয়দপুরের তাপমাত্রাও রেকর্ড ভেঙ্গেছিলো, এটি গিয়ে ঠেকেছিলো দুই দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২০১৮ সালে উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর ডিমলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট এবং দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল তিনের ঘরে। সেগুলো হলো যথাক্রমে— তিন, তিন দশমিক এক এবং তিন দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেসময় রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে তিন দশমিক পাঁচ, তিন দশমিক দুই ও তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তালিকায় আছে রাজশাহীও। ২০০৩ সালে সেখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তিন দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মাঝে অন্যতম।

উত্তরাঞ্চলেই কেন বেশি শীত?

সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বলছে, শীতকালে উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রাই সবসময় সবচেয়ে কম থাকে। এর কারণ, শৈত্যপ্রবাহ বা তাপদাহের প্রবেশদ্বার হলো বাংলাদেশের এই অঞ্চল। শীতকালে উত্তর ভারতের দিল্লি-কাশ্মীর অঞ্চল খুব ঠাণ্ডা থাকে। আর পৃথিবীর স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহের নিয়ম অনুযায়ী বাতাস পশিম থেকে পূর্ব দিকে যায়।

অর্থাৎ, ভারতের দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া বেল্ট ধরে তা বাংলাদেশে ঢোকে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের উত্তর দিক থেকে সরাসরি বাতাস ঢুকতে পারে না, হিমালয়ের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়। আর সাগরে যেহেতু তাপ আদান-প্রদান হয়। তাই, পাহাড়-সাগর এড়িয়ে হিমালয় ও উত্তর ভারতের ঠাণ্ডা বাতাস ওই মাঝামাঝি বেল্ট ধরে প্রবেশ করে। আর এই বাতাসের পথে উত্তরাঞ্চল প্রথম পড়ে বলেই সেখানে এত বেশি ঠান্ডা লাগে।

পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা বেশি হয়, যা সূর্যের আলোকে ভূপৃষ্ঠে ঢুকতে দেয় না। ফলে, দিনের বেলাতেও সেখানকার তাপমাত্রা কম থাকে।

আবার, উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ থাকায় রাতে তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়, তাই সেখানে তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হয়।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে হানা দিতে পারে প্রবল বৃষ্টি, ভারী বজ্রপাতের শঙ্কা
বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতায় দেশের খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে প্রভাব তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে হানা দিতে পারে প্রবল বৃষ্টি, ভারী বজ্রপাতের শঙ্কা
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত
উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর নিম্নচাপটি অবস্থান করছে। এটি রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।   বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।  পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রব ন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ রাতের মধ্যে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আরটিভি/এমএ  
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত
গরম নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গরম কিছুটা কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গরম নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা
দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
আরও পড়ুন
পাকিস্তান-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি প্রকাশ
সবজিতে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের বার্তা
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ-আজারবাইজান নতুন চুক্তি