ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চোখ রাঙাচ্ছে ‘সুপার এল নিনো’, বিজ্ঞানীদের ভয়ংকর সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

চোখ রাঙাচ্ছে ‘সুপার এল নিনো’। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দেখা দিতে পারে তীব্র খরা, দাবানল আর অতিবৃষ্টি। আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে নেমে আসতে পারে আবহাওয়ার চরম এ অবস্থা, যা অব্যাহত থাকতে পারে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এ মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী এল নিনোর তাণ্ডব চালানোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। এ অবস্থায় যদি সুপার এল নিনো সক্রিয় হয়, তাহলে আরও খারাপ হতে পারে পরিস্থিতি। খবর ডেইলি মেইলের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপার এল নিনোর কারণে বিশ্বের অনেক দেশ তীব্র দাবদাহের কবলে পড়বে এবং অনেক দেশে হবে অস্বাভাবিক বৃষ্টি। বিজ্ঞানীরা তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেছেন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সুপার এল নিনো আঘাত হানবে। আর আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এটির প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে, বিশ্বে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হতে পারে ২০২৬ সালে।

আরও পড়ুন

এদিকে আসন্ন ‘এল নিনো’ নিয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও (ডব্লিউএমও)।

মঙ্গলবার (২ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা ৮০ শতাংশ। আর আগামী নভেম্বরের মধ্যে এর শক্তি সঞ্চয়ের আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ।

এছাড়া, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন, ‘আগামী মাসগুলোতে ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বার্তা নিয়ে এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। বিশ্ববাসীকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, উষ্ণ বিশ্বের আগুনে আরও তেল ঢালবে এল নিনো। এটির প্রভাব হবে আরও ভয়াবহ। এবারের এল নিনোর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী। আগের চেয়ে আরও বেশি ধ্বংসাত্মক গতি নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করবে এটি।

‘এল নিনো’ একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ফিরে আসে। এর স্থায়িত্ব হয় প্রায় নয় থেকে ১২ মাস। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

ডব্লিউএমওর তথ্যমতে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ, হর্ন অব আফ্রিকা (আফ্রিকার শিং খ্যাত অঞ্চল) এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। এছাড়া মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হ্যারিকেন বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্ব যখন তীব্র মূল্যস্ফীতির সংকটে রয়েছে, তার মধ্যে সম্ভাব্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন চাপ তৈরি করতে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের মধ্যে পৃথিবীতে এমনই এক বিধ্বংসী সুপার এল নিনো এসেছিল। সেই সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় রেকর্ড খরা ও ফসল নষ্ট হয়েছিল। যার ফলে বিশ্বজুড়ে এক মহাদুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা যান।

২০২৬ সালের সম্ভাব্য ‘এল নিনো’ সেই ইতিহাসকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। তবে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনকার পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, ১৫০ বছর আগে পৃথিবী আজকের তুলনায় অনেক ঠান্ডা ছিল। গত দেড়শো বছরে মানুষের তৈরি দূষণ আর গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের অন্যতম উত্তপ্ত বছর। এই তপ্ত পৃথিবীর উপর যখন আরেকটি সুপার এল নিনোর প্রকোপ পড়বে, তখন খরা এবং দাবদাহের তীব্রতা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সহজেই আন্দাজ করা যায়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব চেলেস্তে সাউলো এ ব্যাপারে বলেন, এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া বিগত এল নিনো পরিস্থিতিটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। সেই চরম আবহাওয়ার কারণেই ২০২৪ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।

তিনি আরও সতর্ক করেন, তীব্র তাপদাহ ও খরার পাশাপাশি মশা ও অন্যান্য বাহকনির্ভর রোগের বিস্তার বাড়তে পারে। একইসঙ্গে, কমে যেতে পারে খাদ্য ও পানির সরবরাহ। ফলে সংকটে থাকা দরিদ্র দেশগুলোতে দেখা দিতে পারে চরম বিপর্যয়।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে হানা দিতে পারে প্রবল বৃষ্টি, ভারী বজ্রপাতের শঙ্কা
বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতায় দেশের খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে প্রভাব তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে হানা দিতে পারে প্রবল বৃষ্টি, ভারী বজ্রপাতের শঙ্কা
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত
উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর নিম্নচাপটি অবস্থান করছে। এটি রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।   বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।  পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রব ন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ রাতের মধ্যে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আরটিভি/এমএ  
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত
গরম নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গরম কিছুটা কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গরম নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা
দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
আরও পড়ুন
বর্জ্য হিসেবে ফেলা হয় ১২ হাজার টন কমলার খোসা, ১৬ বছর পর ‘চোখ ছানাবড়া’ বিজ্ঞানীদের
নতুন বিজ্ঞানীর খোঁজে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন
গুমের শিকার গণঅধিকার পরিষদ নেতা দিলেন নির্যাতনের ভয়ংকর বর্ণনা
গুমের ৬১ দিনের ভয়ংকর বর্ণনা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ