images

বিজ্ঞান

যুক্তরাষ্ট্রে উদীয়মান বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড. তনিমা

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ০৭:৫১ পিএম

বিশ্বের অন্যতম বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-এর ‘বিজ্ঞানের উদীয়মান তারকা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা। অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর ও গ্যালাক্সির সক্রিয় কেন্দ্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য তাকে সাময়িকীটির উদ্বোধনী ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন শাখার মাত্র ২৮ জন তরুণ গবেষকের মধ্যে স্থান পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে তার এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য গৌরবজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুমের বড় মেয়ে। তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞানমনস্ক মহলেও আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

২ হাজার বছরের পুরোনো আঙুরের বীজে মিলল আধুনিক মদের সূত্রক

‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী। ১৮৪৫ সালে থেকে দুই শতাধিক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর লেখা প্রকাশিত হয়েছে এ সাময়িকীতে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি পাঠকের কাছে পৌঁছানো এই সাময়িকী চলতি বছর প্রথমবারের মতো এমন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে স্থান পেয়েছেন আগামী দিনের বিজ্ঞান নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাময় গবেষকরা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা করছেন। তার গবেষণার মূল বিষয় হলো অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে আশপাশের গ্যাস ও পদার্থ শোষণ করে এবং সেই প্রক্রিয়া একটি গ্যালাক্সির গঠন, বিকাশ ও বিবর্তনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকানে প্রকাশিত তার পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় বেড়ে ওঠা তনিমার মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা হয়েছিল শৈশবে। বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় আকাশভরা তারা দেখে মহাবিশ্ব সম্পর্কে তার মনে গভীর কৌতুহল জন্ম নেয়। সেই কৌতুহলই থেকেই পরবর্তীতে তাকে জ্যোতি র্পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার পথে নিয়ে আসে।

আরও পড়ুন
ccv

দেশের আকাশে দেখা যাবে দুই গ্রহের মহামিলনের দৃশ্য

তার গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার গঠন এবং আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই গবেষণা মহাবিশ্বের বিবর্তন, গ্যালাক্সির বিকাশ এবং কৃষ্ণগহ্বরের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে সক্ষম হবে।

বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধা ও গবেষণা সক্ষমতারও একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি। তার এ সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মনে করছেন তারা।

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে তার গবেষণা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার জন্য একটি ইতিবাচক ও গর্বের বার্তা হয়ে থাকবে।

আরটিভি/এমএম