ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশের আকাশে দেখা যাবে দুই গ্রহের মহামিলনের দৃশ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চলতি জুন মাসে দেশের আকাশে দেখা যাবে বছরের অন্যতম সেরা এক মহাজাগতিক দৃশ্য। বিশেষ করে সন্ধ্যায় শুক্র ও বৃহস্পতি এই দুই গ্রহের অবিশ্বাস্য রকমের কাছাকাছি আসা এই সময়কালকে অনন্য করে তুলবে।

এ ঘটনাটি ঘটবে পশ্চিম আকাশে। সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল দুটি গ্রহ শুক্র ও বৃহস্পতি একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসবে। জুনের শুরু থেকেই শুক্র গ্রহ ক্রমাগত আকাশের ওপরের দিকে উঠতে থাকবে ও বৃহস্পতি নিচের দিকে নামতে থাকবে।

এর ফলে ৮ ও ৯ জুন সন্ধ্যায় গ্রহ দুটি একে অপরের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের ঠিক ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিগন্তে তাকালে খালি চোখেই এই দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাবে।

আরও পড়ুন

এছাড়াও এ মাসে থাকবে আরও কিছু মহাজাগতিক দৃশ্য

বুধ গ্রহের দর্শন
সাধারণত সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় বুধ গ্রহকে খালি চোখে দেখা বেশ কঠিন। তবে জুনের প্রথম ১৫ দিন বুধ দেখার জন্য বছরের সেরা সময়। ১৫ জুন বুধ গ্রহ সূর্য থেকে তার সর্বোচ্চ কৌণিক দূরত্বে (২৫ ডিগ্রি পূর্বে) অবস্থান করবে। যত দিন যাবে, বুধ পশ্চিম আকাশে তত ওপরে উঠতে থাকবে। সূর্যাস্তের ঠিক আধা ঘণ্টা পর পশ্চিম দিগন্তের একদম নিচের দিকে তাকালে শুক্র ও বৃহস্পতির বেশ কিছুটা নিচে বুধ গ্রহকে একটি উজ্জ্বল তারার মতো দেখা যাবে। ১৫ জুনে এটি দিগন্ত থেকে সবচেয়ে উঁচুতে থাকবে, যা খালি চোখে বুধকে চেনার এক বিরল সুযোগ।

গ্রহের মালা
১২ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে পশ্চিম আকাশে এক চমৎকার লিনিয়ার অ্যালাইনমেন্ট বা গ্রহের সারিবদ্ধতা তৈরি হবে। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তের নিচ থেকে ওপরের দিকে ক্রমান্বয়ে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্র গ্রহকে একই লাইনে অবস্থান করতে দেখা যাবে। ১৫ জুনের দিকে এদের সঙ্গে যোগ দেবে একটি অতি সরু নতুন চাঁদ, যা জ্যোতির্বিজ্ঞান আলোকচিত্রীদের জন্য একটি দারুণ মুহূর্ত তৈরি করবে।

ভোরের আকাশে শনি ও মঙ্গল গ্রহের রাজত্ব
যাঁরা শেষ রাতে বা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, তাঁদের জন্য জুনের প্রথমার্ধে পূর্ব আকাশে অপেক্ষা করছে ভিন্ন দৃশ্যপট। ভোরের আকাশে হলুদ আভাযুক্ত শনি গ্রহ এখন বেশ উঁচুতে অবস্থান করছে। মধ্যরাতের পর উদিত হয়ে ভোর চারটার দিকে এটি দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠবে। একটি সাধারণ টেলিস্কোপ ব্যবহার করেই শনির বলয়ের সুন্দর বাঁকটি (৯ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকা) দেখা যাবে। অন্যদিকে, লাল গ্রহ মঙ্গল শনির বেশ কিছুটা নিচে, পূর্ব দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করবে। সূর্যোদয়ের প্রায় ঘণ্টা দেড়েক আগে এর লালচে আভা খালি চোখেই দেখা যাবে।

সুপার নিউ মুন
১৫ জুন আকাশে দেখা যাবে অমাবস্যা বা নিউ মুন। এবারের অমাবস্যা চাঁদের পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করায় একে সুপার নিউ মুন বলা হচ্ছে। ১৫ জুনের আশপাশে চাঁদ না থাকায় রাতের আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকার। ঢাকার বাইরে বা গ্রামাঞ্চল থেকে গ্রীষ্মকালীন মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার হালকা সাদা মেঘের মতো আভাসহ এম৮ নেবুলা ও ট্রাইফিড নেবুলাও দেখা যাবে।

বিশেষ পরামর্শ
জুনের আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা বেশি, তবে বৃষ্টির ঠিক পরপরই যখন মেঘ কেটে যায়, তখন বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা ধুয়ে যাওয়ার কারণে আকাশ স্বচ্ছ থাকে। সেই সময়টুকু আকাশ পর্যবেক্ষণের উপযুক্ত সময়। ব্যস্ত জীবনের কোলাহল ছাপিয়ে জুনের ৮ ও ৯ তারিখ সন্ধ্যায় মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য হলেও পশ্চিম আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ব্রহ্মাণ্ডের দুই রাজকীয় গ্রহের এই নৈকট্য আপনাকে মুগ্ধ করবে নিঃসন্দেহে।

সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডট কম, সাইটেক

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসছে বৃহস্পতি, দেখবেন যেভাবে