ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

২ হাজার বছরের পুরোনো আঙুরের বীজে মিলল আধুনিক মদের সূত্র

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির তুসকানির প্রাচীন কূপ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো আঙুরের বীজের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে আধুনিক ওয়াইন তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, রোমান সাম্রাজ্যের সুসংগঠিত কৃষি ব্যবস্থা আজকের ওয়াইন উৎপাদন পদ্ধতির বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে লাল সানজিওভেসে ওয়াইনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত তুসকানির কিয়ান্তি অঞ্চলে একসময় প্রধানত সাদা আঙুরের চাষ হতো।

আবিষ্কারটি হয়েছে কেতামুরা দেল কিয়ান্তি নামে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে। রোমানদের আগমনের আগে এখানে ইট্রুস্কানদের বসতি ছিল। পরে রোমান ও মধ্যযুগীয় ইতালীয়দেরও আবাস গড়ে ওঠে সেখানে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ সাল থেকে খ্রিষ্টাব্দ ৩০০ সালের মধ্যে বসবাসকারীরা আঙুরের বীজ গভীর কূপে ফেলতেন। অক্সিজেনবিহীন কাদায় চাপা পড়ে থাকায় সেগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল।

আরও পড়ুন

গবেষণার সহলেখক ড. ওয়া ইনানলি জানান, ৮০টি বীজের ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশই একই জাতের আঙুরের। ইট্রুস্কানদের সময় থেকে শুরু করে রোমান যুগ পর্যন্ত শত শত বছর ধরে একই জাতের আঙুর চাষ করা হয়েছিল।

জিনগত পরীক্ষায় আরও জানা গেছে, সেই প্রধান আঙুরজাতটি সাদা ফল উৎপাদন করত। বিষয়টি গবেষকদের জন্য ছিল বড় ধরনের বিস্ময়।

১৯৭৩ সাল থেকে কেতামুরা দেল কিয়ান্তিতে খননকাজ পরিচালনাকারী ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ন্যান্সি ডি গ্রামন্ড বলেন, বর্তমানে যে অঞ্চল লাল ওয়াইনের জন্য বিখ্যাত, সেখানে একসময় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাদা আঙুরের চাষ ও সংরক্ষণ করা হয়েছিল— এটি সত্যিই বিস্ময়কর।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রোমানদের দখলের পর ওই এলাকায় নতুন নতুন আঙুরের জাতের আগমন ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল। একই সঙ্গে কেতামুরার প্রধান আঙুরজাতটির সঙ্গে দক্ষিণ ফ্রান্সে পাওয়া দুটি প্রাচীন আঙুরের বীজের ঘনিষ্ঠ জিনগত সম্পর্কও মিলেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই তথ্য রোমান সাম্রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত কৃষি নেটওয়ার্কের প্রমাণ বহন করে এবং আধুনিক যুগে মানসম্মত ওয়াইন উৎপাদনের ভিত্তি গড়ে তুলতে সেই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
মহাকাশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য তুলে ধরে নতুন একটি গ্যালারি প্রকাশ করেছে নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি। এতে বিভিন্ন টেলিস্কোপের তথ্য মিলিয়ে তৈরি ১৬টি গ্যালাক্সির ছবি রয়েছে।
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ কুকিজে রূপান্তরের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। নাসার নেতৃত্বে গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য খাদ্য তৈরির একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট মোকাবিলা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকেরা নতুন এই খাবারের নাম দিয়েছেন ‘µBites’। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে রয়েছে ফেলে দেওয়া পিইটি (PET) প্লাস্টিক (সাধারণত পানীয় ও পানির বোতল তৈরিতে যে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়)। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুট্টার ডাঁটা ও পাতার মতো কৃষিজ বর্জ্য। গবেষণা প্রক্রিয়ায় পানি ও অক্সিজেন ব্যবহার করে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের মাধ্যমে প্লাস্টিক ও উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে ভেঙে ক্ষুদ্র উপাদানে পরিণত করা হয়। পরে বিশেষভাবে প্রস্তুত অণুজীবের সাহায্যে এসব উপাদানকে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন অ্যাসিডে রূপান্তর করা হয়। আরও পড়ুন পৃথিবীতে মানুষের আগেও কি ছিল উন্নত সভ্যতা? যা বলছেন বিজ্ঞানীরা এরপর থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ওই মিশ্রণকে কুকিজের আকার দেওয়া হয়। কুকিজের স্বাদ ও পুষ্টিমান বাড়াতে আলাদাভাবে তৈরি ইস্টও ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের তৈরি এক ধরনের ইস্ট উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকে সরাসরি ভ্যানিলার স্বাদ তৈরি করতে পারে। অন্য একটি ইস্ট পিইটি প্লাস্টিকে থাকা ইথিলিন গ্লাইকোলকে বিটা-ক্যারোটিনে রূপান্তর করে। মানবদেহে বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। গবেষক দল জানিয়েছে, ‘µBites’ খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। এর আগে পরিচালিত গন্ধ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সম্পদের সংকট রয়েছে— এমন পরিস্থিতিতে তারা এই কুকিজ খেতে রাজি। গবেষক লাহিরু জয়াকোডি জানান, ভবিষ্যতে কুকিজে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টিকারক উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এগুলো সাধারণ মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলার আশা করছেন তারা। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা শুধু মহাকাশ অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবিক সংকটের সময় খাদ্যসংকট মোকাবিলা, সীমিত সম্পদের পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগতে পারে। বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে বর্জ্যকে পুষ্টিকর খাবারে রূপান্তরের এই প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষ যে বর্জ্য তৈরি করছে, অণুজীবের সাহায্যে সেটিকেই আবার খাদ্যের উপযোগী উপাদানে পরিণত করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: ফোর্বস আরটিভি/এমএইচজে
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
আজ রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কি?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের স্মৃতি এখনো কাটেনি, এরই মধ্যে আকাশে আজ রাতে শুরু হচ্ছে আরেক বৈচিত্র্যময় মহাজাগতিক ঘটনা—আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সর্বোচ্চ মুহূর্তে পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে গিয়ে এটি রূপ নেবে এক ম্লান কমলা ও রক্তিম আভায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণটি মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের আকাশজুড়ে দৃশ্যমান হবে। সময় ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলো থেকে সরাসরি খালি চোখে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। আকাশে চাঁদের উদয় ও গ্রহণের মূল সময়সূচির তারতম্যের কারণেই বাংলাদেশিরা এই বিরল দৃশ্যের দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, আজ রাতে চাঁদ যখন পৃথিবীর গভীর ছায়াবলয়ে প্রবেশ করতে শুরু করবে, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় থাকবে দিনের আলো কিংবা চাঁদের অবস্থান থাকবে দিগন্তের নিচে। সর্বোচ্চ গ্রহণের সময়ে পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় চাঁদের প্রায় পুরো অংশ ঢেকে গিয়ে যে 'রক্তিম আভা' বা বিশেষ রূপ তৈরি হবে, তা দেখার সুযোগ পাবেন মূলত পশ্চিম গোলার্ধের মানুষ। আরও পড়ুন আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৯টা ২৩ মিনিটে গ্রহণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আসল দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করবে রাত ১০টা ৩৩ মিনিট থেকে। গভীর রাতে, অর্থাৎ ২৮ আগস্ট মধ্যরাত ১২টা ১৩ মিনিটে গ্রহণটি তার চূড়ান্ত রূপ নেবে। সে সময় চাঁদের একটি সরু অংশ ছাড়া পুরোটাই ঢেকে যাবে পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায়। একই সময়ে আকাশে উদয় ঘটবে চলতি আগস্ট মাসের বিশেষ পূর্ণিমার, যা ঐতিহাসিকভাবে ‘স্টার্জন মুন’ নামে পরিচিত। উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের অধিবাসীরা কোনো ধরনের চোখের সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই খালি চোখে দীর্ঘ সময় ধরে উপভোগ করতে পারবেন আকাশের এই বিরল রূপ। আর বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগী ও সাধারণ মানুষকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নির্ভর করতে হবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সরাসরি অনলাইন সম্প্রচারের ওপর। আরটিভি/এআর 
আজ রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কি?
আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহ পর বিশ্ব আরও একটি মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে আকাশে এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখা যাবে।  বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীরা উপভোগ করতে যাচ্ছেন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। যেখানে গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশই পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০:১২ মিনিটে এই গ্রহণ তার সর্বোচ্চ রূপ ধারণ করবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মূল দৃশ্যটি সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলো থেকে। পাশাপাশি ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকেও চাঁদ ওঠা বা ডোবার সময় এর কিছুটা উপভোগ করা যাবে। আরও পড়ুন সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ১১ তথ্য, যা অনেকেই জানেন না চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর সবচেয়ে অন্ধকার ছায়ায় ঢেকে গেলেও সূর্যালোক আমাদের বায়ুমণ্ডল ভেদ করে কিছুটা প্রতিফলিত হবে। ফলে চাঁদ পুরোপুরি অদৃশ্য না হয়ে তামাটে বা লালচে বর্ণ ধারণ করবে, যাকে অনেকেই রূপক অর্থে ‘ব্লাড মুন’ বলেন। পুরো চন্দ্রগ্রহণ প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চললেও এর আসল সৌন্দর্য অর্থাৎ চাঁদের এই লালচে ভাবটি অল্প কিছুক্ষণের জন্যই স্থায়ী হবে। এদিকে সূর্যগ্রহণের বিপরীতে, চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে নিরাপদে দেখা যায়। এই চন্দ্রগ্রহণের আগে ঘটেছিল একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। ওই সূর্যগ্রহণ স্পেন, পর্তুগালের একটি ছোট অংশ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং উত্তর রাশিয়ার আকাশ অন্ধকার করে দিয়েছিল। পরবর্তী সূর্যগ্রহণ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি, যা দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যাবে। পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে ২০ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির রাতজুড়ে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে দেখা যাওয়ার কথা। আরটিভি/এসআর
আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে
দুদিন পরেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চলে
আগামী ২৮ আগস্ট আকাশে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে চলতি বছরের অন্যতম সেরা বৈচিত্র্যময় মহাজাগতিক মুহূর্ত। ওই দিন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করায় বিশ্ববাসী এক বিরল গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবে। সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্যাবলি। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা চাঁদের এই রূপ সরাসরি দেখতে পাবেন। আগামী ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত থেকে ২৮ আগস্ট শুক্রবার ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে এই চন্দ্রগ্রহণ প্রক্রিয়াটি শুরু হবে। এই সময়ে পৃথিবীর ঘন ছায়া চাঁদের উপরিভাগের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে ফেলবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসাবমতে, আগামী ২৮ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে) আংশিক গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়টি দৃশ্যমান হবে। আমেরিকা অঞ্চলের মানুষ ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ করতে পারলেও ইউরোপ ও আফ্রিকার মানুষ সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের নির্দিষ্ট মুহূর্তে আংশিক রূপটি দেখতে পাবেন। আরও পড়ুন পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর এবার আসছে বিরল ‘ব্লাড মুন’ পুরো চাঁদ এবার ঢাকা না পড়লেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার ফলে চাঁদের ঢেকে যাওয়া অংশটি গাঢ় লাল বা তামাটে আভা ধারণ করবে। এই রক্তিম দৃশ্যের কারণে একে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ বলা হচ্ছে। চন্দ্রগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিস্তৃত থাকবে, তবে চাঁদের তামাটে রূপের স্থায়িত্ব হবে কিছুটা কম। গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের আকাশে ঘটে যাওয়া পূর্ণ সূর্যগ্রহণের ঠিক দুই সপ্তাহ পরই একই সরলরেখায় পৃথিবীর অবস্থানের কারণে এই চন্দ্রগ্রহণটি ঘটছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যগ্রহণের মতো এই চন্দ্রগ্রহণ দেখতে চোখের কোনো বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে, তবে বাইনোকুলার বা সাধারণ টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট ধরা দেবে। আরটিভি/এআর 
দুদিন পরেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চলে
আরও পড়ুন
২১০৫ লিটার চোলাই মদের উপাদানসহ নারী আটক
মিলানের ‘রেডি টু শো’ মেলায় বাংলাদেশের ১৪ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
হামলার ঘটনায় ইতালিতে মামলা করলেন অভিনেত্রী বাঁধন
ইতালিতে কারও শরীরে পানি বা তরল ছুড়ে মারলে শাস্তি কী