পবিত্র কোরআন হাতে শপথ করিয়ে বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর চাকরির লোভ ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতো লাখ লাখ টাকা। চক্রটি গত তিন মাসে ৫০টিরও বেশি মোবাইল ফোন ও শতাধিক সিম পরিবর্তন করেছে।
এমন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। তাদের কাছ থেকে হাতে নাতে নগদ ৭০ লাখ টাকা ও একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
তিনি বলেন, তাদের মূল টার্গেট ছিলেন সরকারি ও ব্যাংক থেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। নিজেদের বড় ব্যবসায়ী ও বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিত।
ভুক্তভোগীদের উন্নত পরিবেশে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘড়ি আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার মিথ্যা গল্প শোনানো হতো। বিশ্বাস অর্জনের জন্য নাটকীয়ভাবে ভারতীয় ক্রেতা সেজে ভুক্তভোগীকে ৩ কোটি টাকার চেকও দেওয়া হতো।
চক্রের এক নারী সদস্য বাড়ি ভাড়া নেওয়া ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার কাজে ব্যবহৃত হতেন। তিনি কখনো কাজের মেয়ে, আবার কখনো বোন পরিচয়ে প্রতারকদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতেন।
পিবিআই জানায়, পল্লবী থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলার তদন্তে নামে তারা। এই মামলার বাদী একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকে ব্রাদার্স গ্রুপ নামক কোম্পানির চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রতারকরা তাকে কলাবাগানের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে চাকরির লোভ দেখায় এবং ব্যবসায়িক অংশীদারির মিথ্যা আশ্বাস দেয়। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য সেখানে একটি নাটকীয় ‘ভাই ভাই’ পার্টনারশিপ রচনা করা হয় এবং তাকে পবিত্র কোরআন হাতে শপথ করানো হয়। এই ফাঁদে ফেলে চক্রটি ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
প্রতারণার শিকার হওয়ার পর ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর জানতে পারেন, প্রতারকরা বাসা ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং তাদের ফোনও বন্ধ। পরে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নামে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। প্রাথমিক অভিযানে চক্রের অন্যতম সদস্য আব্দুল আজিজসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, এই অভিযানের সময় আরেকজন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ইলিয়াস খানকে একই কায়দায় প্রতারণা করার সময় উদ্ধার করা হয় এবং তার কাছ থেকে নগদ ৭০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মাহবুবুর রহমান ওরফে মো. আশরাফুল ইসলাম বাবু (৪৩), আল-আমিন ওরফে আ ন ম রফিকুল ইসলাম (৫৫), রাশেদুল ইসলাম ওরফে আব্দুর রহমান ওরফে মো. রফিকুল ইসলাম রাকিব (৪৯), মো. মাসুদ খান ওরফে বস মাসুদ (৪৩), বিলকিস।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়, নগদ ৭০ লাখ টাকা, ১টি মাইক্রোবাস, ৬টি দামি ঘড়ি (দুটি রাডো, দুটি রোলেক্স ও দুটি ওমেগা ব্র্যান্ডের), ২টি চেকবই, ১টি সিল, ১টি চুক্তিপত্র ও ১২টি মোবাইল ফোন।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, চক্রটি গত তিন মাসে ৫০টিরও বেশি মোবাইল ফোন ও শতাধিক সিম পরিবর্তন করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে।
আরটিভি/এএইচ




