রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফার্মগেট এলাকা। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই অবরোধের কারণে আশেপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
নিহত শিক্ষার্থী হলেন তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের (বিজ্ঞান বিভাগ, ২০২৪-২৫ সেশন) ছাত্র সাকিবুল হাসান রানা। গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা ইয়াসমিন নিশ্চিত করেছেন।
তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু জানান, শিক্ষার্থীরা সড়ক আটকে বিক্ষোভ করায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সড়ক ছেড়ে কলেজের পাশে বিক্ষোভ করার জন্য বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছে।
এর আগে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের তরুণ ও সেলিম গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাকিবুল হাসান রানাসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত অন্য দুজন হলেন— হৃদয় আহমেদ (মানবিক বিভাগ) এবং আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাত।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের প্রভাবশালী একটি গ্রুপ ক্যাম্পাস ও হলে আধিপত্য বিস্তার করে মাদক সেবন ও বহিরাগতদের নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তরুণ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মোমেন পালোয়ানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং ফেসবুকে মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে মানসিক টর্চার করা হয়। এছাড়া, ভর্তি ও ফর্ম পূরণের বাণিজ্যেও ছাত্রদলের এই গ্রুপ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত সাকিবুল নামে এক শিক্ষার্থী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় হোস্টেল সুপার বাদী হয়ে একটি মামলাও করেছেন।
ওসি আরও বলেন, ওই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পর পুলিশকে খবর না দিয়েই পরিবারের সদস্যরা লাশ দাফনের জন্য গাজীপুরের শ্রীপুরে নিয়ে যাচ্ছিল। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনে নিষেধ করা হয়েছে পরিবারকে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এআর



