মৃত শিশু গৃহকর্মী নিয়ে মিরপুর থেকে উত্তরার হাসপাতালে আসা দম্পতি আটক

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০৯:৩৬ এএম


মৃত শিশু গৃহকর্মী নিয়ে মিরপুর থেকে উত্তরার হাসপাতালে আসা দম্পতি আটক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে মোছা. মাইমুনা (১০) নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের গাউসুল আজম এভিনিউ এলাকায় অবস্থিত ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত মাইমুনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কালিসীমা গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়।

এ ঘটনায় আটক হওয়া দম্পতি হলেন আইটি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবরার ফাইয়াজ (৩৪) ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট মেহনাজ অনন্যা (৩৪)। বুধবার (২০ মে) সকালে হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে তাদের মিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর ধরে মিরপুর-২ নম্বরের একটি বাসায় ওই দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত মাইমুনা। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাকে নিয়মিত নির্যাতন ও অনাহারে রাখা হতো। শিশুটির শরীরজুড়ে আঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহতের মা বিউটি আক্তার ওরফে সালমা অভিযোগ করে বলেন, আড়াই বছর আগে এক নারীর মাধ্যমে মেয়েকে কাজে দিয়েছিলেন। এরপর বহুবার অনুরোধ করেও মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এমনকি গৃহকর্তারা তাদের বাসার ঠিকানাও দেননি।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে আগে এত শুকনা ছিল না। তার শরীরে কোনো আঘাতের দাগও ছিল না। ওরা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে শেষ পর্যন্ত মেরে ফেলেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ফাইয়াজের বন্ধু চিকিৎসক ডা. মুনতাসির মাহমুদ ইভানের পরামর্শে বিষয়টি গোপন রাখতে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে আড়াই লাখ টাকায় আপস-মীমাংসারও চেষ্টা হয়েছিল। পরে টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ দম্পতিকে আটক করে।

হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, ডা. ইভানের মাধ্যমে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে অন্য একটি হাসপাতালে কর্মরত। শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আবু সাঈদ বলেন, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission