আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামালপুরের ইসলামপুর বাজার স্টেশন থেকে প্রথম ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছে ৪ শতাধিক গরু।
শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকায় পৌঁছায় পশুগুলো।
এর আগে, একইদিন বিকাল ৫টায় ইসলামপুর স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় প্রথম ট্রেনটি।
কম খরচে কোনো ঝামেলা ছাড়া পশু আনতে পেরে খুশি ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ট্রেনের ট্রিপ আরও বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ইসলামপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে তিনটি ক্যাটল ট্রেন চালু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রতি বগিতে ১৬টি করে গরু নিতে খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। গরু প্রতি গুণতে হবে মাত্র ৫০০ টাকা। প্রতিটি ট্রেনে ২৫টি করে ওয়াগন রয়েছে। প্রত্যেকটিতে ১৬টি করে গরু নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বছর ইসলামপুর স্টেশন থেকে ৭৫টি ওয়াগন বুকিং করেছে গরু ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় প্রথম ট্রেনটি ছাড়ার দুই ঘণ্টা পরই দ্বিতীয় ট্রেনটি ছেড়ে যায়। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে তৃতীয় ট্রেনটি ইসলামপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে খামারি ও পাইকারদের কথা ভেবে সরকার ২০২০ সালে প্রথম কেরবানির পশু পরিবহনে ক্যাটল ট্রেন চালু করে। তারপর থেকে প্রতি বছরই খামারি ও পাইকাররা এ অঞ্চলের পশু ট্রেনে করে বিক্রির জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও পশু পরিবহনে বাংলাদেশ রেলওয়ে জামালপুরের ইসলামপুর থেকে পশু ঢাকায় নেওয়ার জন্য তিনটি ক্যাটল ট্রেনে মোট ৭৫টি ওয়াগন বরাদ্দ দিয়েছে। এসব ওয়াগনের মাধ্যমে প্রায় ১,২০০ কোরবানির পশু ঢাকায় পরিবহন করা হবে। এতে প্রতিটি ট্রেনের জন্য রেলওয়ে বিভাগ ভাড়া পাবে ২ লক্ষ টাকা।
গরু ব্যবসায়ী কুদ্দুছ বেপারী বলেন, আগে ট্রাকে করে গরু নিয়ে গেলে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দেওয়া লাগতো। আনিসুর রহমান ব্যাপারী নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ট্রাকে করে গেলে ঝাকিতে গরুর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ট্রেনে গরু নিয়ে গেলে কোনো ঝাঁকি লাগে না। গরু নিয়ে খুব আরামে ঢাকা যাইতেছি।
সামাদ মিয়া গরু বেপারী বলেন, ট্রেনে গেলে আমাদের খরচ অর্ধেক লাগে। যেখানে ট্রাকে গেলে বেশি খরচ ও ঝুঁকি বেশি থাকে। সেজন্য এসব এলাকার গরু ব্যবসায়ীরা এখন ট্রাকের বদলে এই ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনকেই বেশি পছন্দ করছে।
ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনের আরও ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। সড়ক পথের চেয়ে ট্রেনে পশু পরিবহনে খরচ কম ও নিরাপত্তা বেশি থাকায় খামারি ও পাইকারদের এমন সারা পাওয়া গেছে। এমন পরিবহন ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।
আরটিভি/টিআর




