হানিট্র্যাপে পড়ে খুন হলেন উবার চালক, মূলহোতা চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ০৮:৫৬ পিএম


হানিট্র্যাপে পড়ে খুন হলেন উবার চালক, মূলহোতা চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর দক্ষিণখানের তুরাগ নদীতে মো. লোকমান সরদার (৩৮) নামের এক উবার চালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

মূলত, প্রাইভেট কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে ওই চালককে ডেকে আনে একটি অপরাধী চক্র, যার নেতৃত্বে ছিলেন এক চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য।

এই ঘটনায় মূল আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. এস এম সালমান (২৯), মো. আদিব ইসলাম (১৯), জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আর্নবা মীম (২১) ও মো. সবুজ মিয়া (৩৫)। এদের মধ্যে সালমান ও আদিবকে কক্সবাজার সদর থেকে মীমকে ঢাকার খিলক্ষেত এবং সবুজ মিয়াকে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ছিনতাই হওয়া প্রাইভেট কারটি গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী সালমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, গত ১ জুন উত্তরার দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকার তুরাগ নদী থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে জানা যায় তার নাম লোকমান সরদার এবং তিনি পেশায় উবার চালক। তাকে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় হত্যা করে লাশ তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একটি হানিট্র্যাপ চক্র জড়িত।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ২৬ মে রাতে এই চক্রটি পাখির বাজার বস্তি এলাকায় মাদক সেবন করে। ভোরে তারা একটি উবার ডাকে এবং সালমান ও মীমসহ তিনজন লেকসিটির কনকর্ড টাওয়ার এলাকায় যান। সেখান থেকে মীম গাড়িটি ২ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে সাভারে যান। ফিরে আসার পর তারা এই গাড়িটি ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও জানান, চক্রটি ৩০ মে মধ্যরাতে মীমকে দিয়ে লোকমানকে ফোন করায় এবং হানিট্র্যাপে ফেলে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় ডেকে আনে। লোকমান সেখানে আসা মাত্রই চক্রের সদস্যরা তাকে ধরে মারধর শুরু করে। তারা মিথ্যা অভিযোগ তোলে যে—সাভার যাওয়ার দিন মীম এর কাছ থেকে লোকমান ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং দুই ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়েছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে লোকমান বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে দেন। তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকাও চক্রটি নিয়ে নেয়। এরপর আরও মারধর করলে লোকমান মারা যান এবং পরে তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

চক্রের হোতা সালমান সম্পর্কে পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত এস এম সালমান একসময় সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর সে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। মীম ও সালমান নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিতেন, যদিও বাস্তবে তারা স্বামী-স্ত্রী নন।

অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, সালমানের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। তাদের নামে আগেও এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission