রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানকে ঘিরে সংঘবদ্ধ কঙ্কাল পাচারকারী চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমসূত্রে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কবর থেকে মরদেহের হাড় তুলে তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কবরস্থানে প্রিয়জনদের দাফন করা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ আজিমপুর কবরস্থানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি মরদেহ দাফন করা হয়। প্রায় ৩২ একর জায়গাজুড়ে থাকা এ কবরস্থানে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কবর। অভিযোগ রয়েছে, এখানকার কিছু গোরখোদক ও তাদের সহযোগীরা নির্দিষ্ট কবর চিহ্নিত করে সুযোগমতো সেখান থেকে মরদেহের হাড় তুলে পাচার করে।
অনুসন্ধানে কঙ্কাল ক্রেতা পরিচয়ে যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্যরা জানান, ছয় থেকে সাত মাস পুরোনো এবং নামফলকবিহীন কবর থেকে হাড় সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ। প্রয়োজন হলে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল সরবরাহ করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তারা।
চক্রের এক সদস্য জানান, একটি মানুষের ২০৬টি হাড় গুনে গুনে সরবরাহ করা হবে। এর জন্য তারা ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, কবর খননের কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই কাজ করে থাকেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সন্ধ্যার পর কবর খুঁড়ে হাড় বের করে ঘাসভর্তি বস্তায় করে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। পুরো যোগাযোগ মোবাইল ফোনে করা হয় এবং লেনদেন শেষে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে চিনতে পারে না—এমন ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হয়।
চক্রের সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি দাবি করেন, একটি মরদেহ থেকে সব হাড় পাওয়া যায় না। তাই দুই বা তিনটি মরদেহের হাড় একত্র করে পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল তৈরি করা হয়। তিনি আরও বলেন, আগে অনেকের কাছেই কঙ্কাল সরবরাহ করেছেন এবং এ কাজ থেকে পাওয়া টাকার একটি অংশ এতিমখানায় দান করা হয়।
কবরস্থানের এক গোরখোদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিনের দাফনের মধ্যে কিছু কবর আগে থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর মরদেহ অন্য কবরে সরিয়ে রেখে পরে সেখান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করা হয়।
এ বিষয়ে লালবাগ থানার পুলিশ জানায়, কঙ্কাল চুরির অভিযোগ নতুন নয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি জমা পড়েনি। ফলে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু করা সম্ভব হয়নি।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন আলী গণমাধ্যমকে বলেন, কঙ্কাল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানিয়েছেন লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
আরটিভি/জেএমএ



