রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৮ পিএম


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়
বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাজধানীর বঙ্গভবনের সামনে ভিড় করেছেন উৎসুক জনতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত বঙ্গভবনের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা বঙ্গভবনের বাইরে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অনেক উৎসুক মানুষও।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গভবনের মূল ফটকের সামনে ব্যারিকেড বসিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। ব্যারিকেডের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে সংবাদকর্মীরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দ্বিতীয় ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি যানবাহনকে মাঝে মাঝে বঙ্গভবনে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসহাকিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘শুনেছি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করেছেন। উনি বের হন কি না, তাই দেখতে এসেছি। মতিঝিলে একটি কাজে এসেছিলাম, সেখান থেকে এখানে চলে এসেছি।’

এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাতীয় সংসদে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তার অপসারণের দাবি তুলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পরও তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বহাল রাখা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত ছিল। অবশেষে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে শুক্রবার তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission