টাঙ্গাইলের হাট কাঁপাবে ‘বস’

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩ , ০৩:১৯ এএম


টাঙ্গাইলের ‘বস’
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের কুরবানির হাট কাঁপাবে বস, ব্লাক টাইগার আর লাল বাদশা। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় খাবার খাইয়ে বড় করে তোলা হচ্ছে তাদের। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছেন দেখতে। কেউবা কেনার জন্য করছেন দর কষাকষি। এদের দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

বসকে লালন-পালন করছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের দেউপুর গ্রামের হাতেম আলী তালুকদার।

 খামারি হাতেম আলী জানান, ২ বছর আগে ব্রাহমা জাতের ছোট বাছুর কিনেছিলেন তিনি। এরপর থেকে নিজ খামারে দেশীয় দানাদার খাদ্য খাইয়ে লালন-পালন করছেন গরুটিকে। নাম রেখেছেন টাঙ্গাইলের বস। যেমন তার নাম, তেমন তার ভাব। প্রতিদিন ২৫ কেজি ঘাস, ২০ কেজি ভূট্টার সাইলেস খায় বস। এছাড়াও খড়, ভূষি ও সোলা খাওয়ানো হয় ১০ কেজি। প্রায় ২৮ মন ওজনের ব্রাহমা জাতের বিশাল আকৃতির গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ৮-১০ বছর আগে প্রবাস থেকে ফিরে গাভীর খামার করেন। পরে শখের বসে একটি করে ষাঁড় লালন পালন করেন। গরুর জন্য তিনি তৈরি করেছেন টিনসেট ভবন। এর পাশেই বড় গরুর জন্য দেয়াল ঘিরে তৈরি করেছেন মাঠ। বড় গরু বাইরে বের না করে মাঠেই ছেড়ে রাখেন।

আর খামারের ভেতরে বসের জন্য লাগানো রয়েছে ৩টি ফ্যান। বিদ্যুত না থাকলে বসকে একাধিকবার গোছল করানো হয়। গত বছর কুরবানিতে সাড়ে ৬ লাখ টাকায় বড় আকৃতির গরু বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। এবছরও ভাল লাভের আশা করছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বসের মতো টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সারপলশিয়া গ্রামের আল-মোত্তাকিন এগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা হচ্ছে ব্লাক টাইগার ও লাল বাদশা। ব্লাক টাইগারের ওজন ১৮ মন ও লাল বাদশার ওজন ১৬ মন। খামারটিতে রয়েছে ৩০টি গরু। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে তাদের লালন পালন করা হচ্ছে।

আল-মোত্তাকিন এগ্রো ফার্মের মালিক মো. ওহাব আলী জানান, তার খামারে ব্লাক টাইগার ও লাল বাদশাসহ ৩০টি গরু রয়েছে। এদের প্রাকৃতিক খাবার খৈল, গমের ভূষি, ভাত, চালের গুড়া খাইয়ে বড় করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া জেলার সবচেয়ে বড় গরুর খামার ভূঞাপুরের গোবিন্দাসীর চকদার গরুর খামার। খামারটিতে বিভিন্ন জাতের ১৫০টি গরু লালন পালন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০টি গরু বিক্রি করা হয়েছে। এই খামারে সর্বনিম্ন ৩ লাখ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে।

চকদার খামারের মালিক রাফি চকদার জানান, খামারের সব গরু প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। ৫০টি গরু বিক্রি হয়েছে। খামারে বিক্রি না হলে বাকি গরু ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় জানায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৬ শতাধিক খামার রয়েছে। খামারে কুরবানির পশু রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার আর চাহিদা রয়েছে দেড় লাখ। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৩০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রানা মিয়া বলেন, ভারত থেকে যাতে চোরাই পথে গরু আসতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি রয়েছে।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission