নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চরকামালদি গ্রামে বিএনপির নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় পার্টির নেতা হজরত আলী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ প্রধান এ ঘটনায় সম্প্রতি সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বুধবার ( ১২ মার্চ) সকালে আরটিভির কাছে অভিযোগের বিষয়টি বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ প্রধান নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল হক মোল্লা, মো. হজরত আলী মোল্লা, বাবু মোল্লা, মো. শামিম মোল্লা গত ৭ মার্চ শুক্রবার চরকামালদী উত্তর পাড়া মসজিদের সামনে সানাউল্লাহর বন্ধু আমানকে রাস্তায় আটকে ডিসের মেশিন ও নগদ ২ লাখ টাকা জোরপূর্বক রেখে দেয় এবং তার কাছে আরও চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে আমান বিএনপি নেতা সানাউল্লাহর কাছে এসে ঘটনার বিষয়ে জানালে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করার জন্য একটি সালিশি বৈঠকে মিলিত হন সবাই। সালিশ বৈঠকে বিবাদীদেরকে ডেকে আমানের মেশিন ফেরত দিতে বললে বিবাদীরা তা না করে উল্টো বিএনপি নেতা সানাউল্লাহর ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এ সময় এলোপাতাড়ি মারধর করায় বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ আহত হন।
পরে আশপাশের লোকজন বিএনপি নেতা সানাউল্লাহকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে নুরুল হক মোল্লা পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি করেন। আর অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন। সে সময় প্রকাশ্যে নুরুল হক মোল্লা, মো. হজরত আলী মোল্লা, বাবু মোল্লা, মো. শামিম মোল্লা বিএনপি নেতা সানাউল্লাহর বাড়িতে ডাকাতি ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেন।
এ ছাড়াও অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএনপি নেতা সানাউল্লাহর পরিবারের লোকজনকে হত্যা করার হুমকিও দিয়েছেন বিবাদীরা।
এ বিষয়ে বিএনপির নেতা সানাউল্লাহ প্রধান বলেন, জাতীয় পার্টির নেতা হজরত আলী ও তার অনুসারীরা খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা যেকোন সময় আমাকেসহ আমার পরিবারের লোকজনকে খুন করবে বলে হুমকি দিয়েছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাকে যে কোনো মুহূর্তে ওরা হত্যা করতে পারে। আমি সরকারের কাছে আমার নিরাপত্তা চাই। যারা আমার ওপর হামলা চালালো তাদের শাস্তি চাই।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, একে তো আমার ওপর তারা হামলা চালিয়েছে; আবার তারাই তাদের পরিচিত সাংবাদিকদের দিয়ে আমাদের সোনারগাঁ উপজেলা যুবদল নেতা ওয়াজকুরনীকে আমার সঙ্গে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি ন্যায্য বিচার চাই। প্রশাসন তদন্ত করে সত্যটা বের করুক। আমি দোষী হলে আমাকে শাস্তির আওতায় আনুক। আর আমি দোষী না হলে, যারা আমাকে হত্যার হুমকি দিলো তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হোক।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারী বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমকে/এস





