বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা পাচারে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে মাদক কারবারিরা—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দুই যুবককে হাতে আধুনিক বন্দুক ও শর্টগান নিয়ে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে দেখা গেছে।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে সাদা শার্ট পরিহিত এক যুবককে বলতে শোনা যায়, নাফ নদীর খালে যা কিছু (ইয়াবা) পাব, সব ছিনিয়ে নেব, না দিলে গুলি করব।
এ সময় তার হাতে একনলা বন্দুক এবং অপর যুবকের হাতে শর্টগান দেখা গেছে।
স্থানীয় কয়েক বাসিন্দার দাবি, সাদা শার্ট পরিহিত যুবক রমজান আলী (৩৮)। তার বাড়ি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে। অন্য যুবক রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিডিওতে রমজান তার সিন্ডিকেটের আরও কয়েকজন সদস্যের নামও উল্লেখ করেন, যারা এর আগেও মাদক পাচারে জড়িত ছিলেন।
উখিয়া থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তে আব্দুল হামিদ নামের আরও এক পরিচিত মাদক কারবারির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও উঠে এসেছে। জানা গেছে, সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী একটি চক্র হামিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ছিনিয়ে নেয়। এরপরই প্রতিশোধ নিতে তিনি এই ভিডিও প্রচার করেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এরই মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় ইয়াবা পাচার বেড়ে গেছে। গত ১৪ আগস্ট উখিয়ার কাটাখাল সীমান্ত থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি।
বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেছেন, মাদক বা অস্ত্র—কোনো কিছুই সীমান্ত পেরোতে দেওয়া হবে না। বিজিবি কঠোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেড়ে যাওয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সীমান্তবর্তী জনজীবনে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোসাইন বলেন, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল বন্ধ করতে হবে।
এরই মধ্যে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। টাস্কফোর্সের সদস্যসচিব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোমেন মন্ডল জানান, শুধু আগস্ট মাসেই ২১ লাখের বেশি ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবি ও পুলিশ ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে।
আরটিভি/এমকে




