ঢাকার ধামরাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী সাদ হত্যা মামলার আসামি কুল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি তার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর করতে গেলে রাজমিস্ত্রি ও তার সহযোগীদের মারধর করেন ওই চেয়ারম্যানের ছেলেসহ কিছু দুর্বৃত্ত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করছেন লুৎফর রহমান।
এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ফরহাদ হোসেন রিমন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধামরাই থানাধীন কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল মৌজাস্থিত জে. এল নং- আর, এস- ২৮৬, আর. এস খতিয়ান নং-১৫৯৯ ও ১১৮৬, আর, এস দাগ নং- ১০০১ ও ১০০২ সংবলিত সর্বমোট ৩১ শতাংশ জমি ফরহাদ হোসেন গংরা বায়না সূত্রে মালিক হয়। ফরহাদ হোসেন বাবুল মিয়ার নিকট হতে এ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাবেক এই চেয়ারম্যান ওই জমি বিভিন্ন সময় দখলের উদ্দেশ্যে রিমন, নাজমুল, জুলহাস ও বাবুল মিয়াকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এলাকাবাসী ও থানায় একাধিকবার বসা হলেও কারোও কোন কথা মানেননি ওই ইউপি চেয়ারম্যান। গত ২৫ অক্টোবর ওই জায়গায় কাজ করতে গেলে চেয়ারম্যান এর ছেলে, মমিন ও রিপন ও একই এলাকার জসিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন দা, লাঠিসোটা, লোহার রড, এসএস পাইপ ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্রে এসে জমিতে কর্মরত রাজমিস্ত্রিদের কাজ বন্ধ করে দিয়ে মারধর করে।
স্থানীয়রা জানান, লুৎফর চেয়ারম্যান এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। তার ইটভাটার জন্য মাটির জোগান দিতে বহু মানুষের জমি নষ্ট করেছেন। এছাড়া তার ইটভাটার অনুমোদন নেই বলেও জানা যায়।
লুৎফর চেয়ারম্যান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী সাদ হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। ইতিপূর্বে এলাকায় এক যুবকের জমি তার কাছে বিক্রি না করায় যুবকের বুকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে নির্যাতনের ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
প্রশাসনের একাধিক সুত্র জানিয়েছে, তিনি বিভিন্ন মামলায় জামিনে থাকলেও তাকে নজরদারিতে রাখার নির্দেশ রয়েছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ফরহাদ হোসেন রিমন জানান, আমি কাগজপত্র দেখে বাবুল মিয়ার কাছ হতে জমিটি কিনেছি। কিন্তু প্রভাবশালী ওই চেয়ারম্যান কোনমতেই আমাকে কাজ করতে দিচ্ছে না। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
বাবুল মিয়া জানান, ওই চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে জোর করে আমার জমির মাটি কেটে নিয়েছিল। এখন আমার জমি আমি তার কাছে বিক্রি না করলেও সে অল্প দামের প্রস্তাবে জোর করে আমার জমি নিতে চায়। আমি তার কাছে বিক্রি করতে সম্মত হয়নি বলেই তিনি রিমনকে ও আমাকে হেনস্থা করছেন।
কুল্লা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, আমি বাবুলের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনেছি।
তবে কেনা সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ওই চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় দুই পক্ষ এসেছিল। তারা দুই পক্ষ মিলে বিষয়টা মীমাংসা করবে জানিয়ে চলে যায়।
আরটিভি/এমএ




