দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুল। নিচু এলাকায় নির্মাণের কারণে ২০২২ সালের বন্যায় পুরো ক্রীড়া কমপ্লেক্স পানিতে তলিয়ে যায়। ওই বন্যার পর থেকে আর সংস্কার করা হয়নি সুইমিংপুলটি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পুরো অবকাঠামো। ২০১৪ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সুইমিংপুলে আন্তর্জাতিক মানের সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে এটি পুনরায় চালুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশ স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা।
সুইমিংপুলের এমন বেহাল দশার জন্য কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করছেন খেলোয়াড়রা। তারা বলেন, ‘২০২২ সালের বন্যার পর থেকে সুইমিংপুল পুরোপুরি বন্ধ। নেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত অনুশীলন করতে না পারায় ইনজুরিতে পড়ছি। সুইমিংপুলের অবস্থা খুবই খারাপ।’
আরেকজন খেলোয়াড় বলেন, ‘ইনডোর অংশে বসার মতো জায়গাও নেই। দ্রুত সংস্কার না হলে পুরো স্থাপনাটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যাবে।’
সুইমিংপুলটি সংস্কার করে পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. নূর হোসেন। তিনি বলেন, ‘করোনাকাল থেকে সুইমিংপুলটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, এটি সংস্কারের আওতায় আসবে। আশা করছি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ বিষয়ে ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে।’
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কারকাজ করা হবে।’
নগরীতে পর্যাপ্ত জলাশয় না থাকায় সাতার প্রশিক্ষণে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ্দের একমাত্র ভরসা এই সুইমিংপুল, এটি চালু হলে বিভাগ থেকে প্রতিভাবান সাতারুও বের হয়ে আসবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
আরটিভি/এএএ





