ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

লেবাননের আরও গভীরে ইসরায়েলি বাহিনী, ৯০০ বছরের পুরোনো দুর্গ দখলের দাবি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

প্রায় ৯০০ বছর ধরে পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক দুর্গ। ক্রুসেডারদের যুগ থেকে শুরু করে অসংখ্য যুদ্ধের সাক্ষী এই ঐতিহাসিক স্থাপনাই এবার মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। লেবাননের গভীরে ঢুকে সেই বিউফোর্ট দুর্গে নিজেদের পতাকা উড়িয়েছে ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি দুর্গ দখলের ঘটনা নয়, বরং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এমন এক কৌশলগত অগ্রগতি।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুর্গ দখলের দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। কয়েকদিনের তীব্র বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও স্থল অভিযানের পর রোববার দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতেও দুর্গের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ও গোলানি ব্রিগেডের পতাকা দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

রোববার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, তাদের সেনারা বিউফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ‘কালাত আল-শাকিফ’ নামেও পরিচিত বিউফোর্ট দুর্গ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়। পাহাড়চূড়ায় অবস্থানের কারণে এখান থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়। ফলে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থান। ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানকালে এখানেই ঘাঁটি গড়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

আরও পড়ুন

এই অভিযানের আরও একটি বড় দিক হলো, ইসরায়েলি বাহিনী লিটানি নদী পেরিয়ে লেবাননের আরও গভীরে প্রবেশ করেছে। প্রায় ২৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা এত ভেতরে অভিযান চালালো। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার ঘাঁটি ধ্বংস ও নিজেদের নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি দুর্গ দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিউফোর্টের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর এখন ইসরায়েলের নজর দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহর দিকে। এই শহরকে ঘিরে ফেলতে পারলে পুরো দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিম বেকা উপত্যকার ওপর নজরদারির সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহও চালিয়ে যাচ্ছে পাল্টা হামলা। তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও জনপদে রকেট হামলার দাবি করেছে। সীমান্তজুড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে সংঘর্ষের মাত্রা। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল কার্যত ‘পোড়ামাটি নীতি’ বাস্তবায়ন করছে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তার সরকার।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথগুলো কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের খাঁ-খাঁ নীরবতা, বন্যপ্রাণীর ভয় আর ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ে ক্লান্ত পথিকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ সেই মানবতার ঐতিহ্যকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তির উপার্জনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এমন দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও এক বিরল মানবসেবার বার্তা দেয়।
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আরও পড়ুন
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা
লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১১ 
মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে দিলো মধ্যপ্রাচ্যের এক দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমকে’ থামলো ইসরায়েল, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর