সোনারগাঁয় সোহেল হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৫

সোনারগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ  

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:১১ পিএম


সোনারগাঁয় সোহেল হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মো. সোহেলকে (৪১) হত্যার ঘটনার চারদিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই করা ব্যাটারিচালিত রিকশাটি।

বিজ্ঞাপন

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সুজন মিয়া (৩৩), মো. শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯), মো. দুলাল মিয়া (৪৫), মো. আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) ও মো. আবুল কাশেম (৪০) নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক প্রতিবন্ধী সোহেল ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হন। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ২০ জানুয়ারি সকালে সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে নাক, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পরিবার গিয়ে এটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

 

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মহসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, অর্থের অভাবে আসামি সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করে তার রিকশা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ জানুয়ারি বিকেলে তারা সোহেলের রিকশা ভাড়া করে একটি বাজারে যান। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ানো হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে তাকে মুছারচরের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহেলের হাত, নাক ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে রিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা।

তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার পর রিকশাটি রূপগঞ্জ এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হয় এবং পরে তা বিক্রি করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য তিনজন ছিনতাইকৃত রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানান। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই করা ও চোরাই রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

আরটিভি/এমএইচজে/

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission