ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা প্রতিপক্ষ: এ্যানি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্ট জিয়া তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ ক্ষমার ঘোষণার সম্মান তারা রাখতে পারেননি। তারা স্বাধীনতার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি পাকিস্তানি হানাদারদের দেখিয়ে দিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, এমনকি মা-বোনদের ওপরও নির্যাতন চালিয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জিয়া পরিবারের একজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আরেকজন প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে বিশ্বের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা হবে। এটি নতুন ইতিহাস ও নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জিয়া পরিবার এ দেশের মানুষের কাছে কত প্রিয়, কত সম্পর্কিত, বন্ধন-বন্ধুত্ব কত গভীর- তা তাদের জনদরদি শাসনব্যবস্থা দেখলেই বোঝা যায়।

তিনি বলেন, আজ প্রেসিডেন্ট জিয়া নেই, বেগম খালেদা জিয়াও নেই। তারা নির্যাতিত ছিলেন, আবার সম্মানিতও ছিলেন। তারেক রহমান তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান। দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি নির্বাসিত ছিলেন। বাংলাদেশে আসার পর লাখ লাখ মানুষের সামনে ১৫ মিনিট বক্তব্য দিয়েছেন। আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন, মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে কীভাবে দেশের ও মানুষের সেবা করবেন, সে জন্য দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। আজ তিনি মায়ের মতো, বাবার মতো গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া যেভাবে গণমানুষের নেতা হিসেবে গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন, তিনিও বাবার মতো, মায়ের মতো গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন এবং মানুষের দোরগোড়ায় আছেন।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আমরা সবাই মিলে ধানের শীষে ভোট দিই, তাহলে তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, ইনশাআল্লাহ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুযোগ পেয়েছি। এই সুযোগ আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তৈরি করেছি। এই দিনটি জাতির সামনে আনার ক্ষেত্রে জনগণ সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়েছে। এর চেয়েও বেশি অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়েছে জিয়া পরিবার।

এ সময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, সদস্য নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, আবুল হাশেম, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ও বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ আনাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সিলেট সীমান্তে সাড়ে ভারতীয় পেঁয়াজসহ সাড়ে ৬০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে ৩ হাজার ৫০০ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ, ১২০ বোতল মদসহ বিভিন্ন চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
সিলেট সীমান্তে সাড়ে ভারতীয় পেঁয়াজসহ সাড়ে ৬০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের পর ৩ দিন বন্দি বানিয়ে রাখেন চুন্নু
পাঁচ হাজার টাকা চুরির অপবাদে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর গোয়ালঘরে পায়ে শিকল বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার বিধবা মাও।
মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের পর ৩ দিন বন্দি বানিয়ে রাখেন চুন্নু
সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ 
ফেনীর ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।
সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ 
গঙ্গাচড়ায় পরীক্ষায় ওএমআর বদলের অভিযোগে ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
দাখিল পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা এবং টাকা না পেয়ে এক পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট বদলে দেওয়ার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গঙ্গাচড়ায় পরীক্ষায় ওএমআর বদলের অভিযোগে ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
মনপুরার জেলেদের ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’, নিষেধাজ্ঞার আগে গভীর নিম্নচাপ
মেঘনার বুকে মাছ ধরেই যাদের সংসার চলে, সেই জেলেদের জীবনে যেন একের পর এক সংকট। সামনে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে কয়েকটি দিন মেঘনায় মাছ শিকার করে পরিবারের ভরণপোষণের অর্থ জোগাড়ের আশায় ছিলেন মনপুরার জেলেরা। কিন্তু সেই আশাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে নদীতে মাছ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মনপুরার বহু জেলে। তাদের আশা ছিল, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় যে আয়-রোজগারের ঘাটতি তৈরি হবে, তার কিছুটা আগে মাছ ধরে পুষিয়ে নেবেন। তবে এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জেলেদের মধ্যে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার আগে কয়েকদিন নদীতে মাছ ধরে সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন মনপুরার জেলেরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরতে না পারলে তাদের সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলেদের ভাষ্য, বছরের বড় একটি সময় নদী ও সাগরে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা, বৈরী আবহাওয়া এবং নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ার কারণে অনেক সময় ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। নিষেধাজ্ঞার আগে মাছ ধরার সুযোগটুকুও যদি আবহাওয়ার কারণে নষ্ট হয়, তাহলে পরিবারের খাবার, নৌকার জ্বালানি, জাল মেরামত ও অন্যান্য খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, একদিকে সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে তার আগেই গভীর নিম্নচাপ সব মিলিয়ে তাদের জীবনে যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা মাছ ধরতে না পারলে নিষেধাজ্ঞার সময় ও পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। মেঘনার তীরে এখন তাই একটাই প্রশ্ন নিষেধাজ্ঞার আগে যে ক’দিন মাছ ধরে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন জেলেরা, গভীর নিম্নচাপের বৈরী আবহাওয়া সেই স্বপ্নকে কতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। আরটিভি/এসআর  
মনপুরার জেলেদের ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’, নিষেধাজ্ঞার আগে গভীর নিম্নচাপ
আরও পড়ুন
২২ ভরি সোনা নিয়ে পলাতক সেই ব্যবসায়ী আটক
২২ ভরি সোনা নিয়ে পলাতক ব্যবসায়ী ঢাকায় পুলিশের হাতে আটক
চার দোকানের ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও
বিরোধী দল দেশকে দাসত্বের মধ্যে রাখতে চায়: আবুল খায়ের ভূঁইয়া