এনসিটি ইজারা

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:০৫ পিএম


চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

দুই দিন বিরতির পর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আবারও চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

বিজ্ঞাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহির্নোঙরেও ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। 
 
পরিষদের চার দফার মধ্যে প্রধান দাবি— ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়া হবে না মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে। 

বিজ্ঞাপন

অন্য দাবিগুলো হলো: আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ।  

আরও পড়ুন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা হুমায়ুন কবির।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, সংকট সমাধানের বদলে বন্দর চেয়ারম্যান আগামী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছেন। তাকে অবিলম্বে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন, এতদিন বন্দরের বহির্নোঙরের কার্যক্রম এই ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকলেও রোববার থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে সেখানেও কাজ বন্ধ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ হারুন, তাসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, ইমাম হোসেন খোকন ও শরীফ হোসেন ভুট্টো।

এর আগে, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে টানা ছয় দিন কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। সেই অচলাবস্থার ফলে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

পরে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠক করে দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনকারী সংগ্রাম পরিষদ। 

তবে, শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, সেই বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে আন্দোলনকারী নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু এবং তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানায়।

আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে গত মঙ্গলবার থেকে বন্দরের তিনটি প্রধান স্থাপনা—এনসিটি, চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকরা। কর্মসূচির প্রথম তিন দিন তারা দৈনিক আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন।

দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯১ শতাংশই সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। টানা ছয় দিন বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি খাতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী নেতারাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা আসন্ন রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

আরটিভি/এসআর  

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission