মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যার পর জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চেয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন বাবা আব্দুল বারেক খান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কাঁঠালিয়া থানা-পুলিশ আব্দুল বারেক খানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ছেলে মেহেদী হাসান শুভর মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান শুভ (২৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রায়ই তিনি বাবা-মাকে মারধর করতেন এবং এলাকার একাধিক ব্যক্তিকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছেন। তার অত্যাচার-নির্যাতনে বাবা-মাসহ এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকতেন।
ঘটনার দিন সকালে শুভ বাবার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন এবং বসতঘর ভাঙচুর করেন। সন্ধ্যায় তিনি বাজার থেকে একটি দা কিনে বাড়ি ফেরেন। পরে মা খুশি বেগমকে বলেন, টাকা না দিলে ওই রাতেই তাদের দুজনকে হত্যা করা হবে।
বিষয়টি আব্দুল বারেক খানকে জানান খুশি বেগম। বারেক খানের পরামর্শে খুশি বেগম রাতে অন্য ঘরে ঘুমান। রাত ৩টার দিকে আব্দুল বারেক ঘুমন্ত ছেলে শুভকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে কাঁঠালিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুভর মরদেহ উদ্ধার করে এবং আব্দুল বারেক খানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শুভর মা খুশি বেগম স্বামী আব্দুল বারেক খানকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
ঘটনার পর সহকারী পুলিশ সুপার (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর সার্কেল) মো. শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান ও ওসি (তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহ আলম বলেন, মেহেদী হাসান শুভ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার ভয়ে পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। তিনি মা-বাবা ও এলাকাবাসীকে মারধর করতেন। ঘটনার রাতে শুভ মা-বাবার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের হত্যার হুমকি দেন। এতে বাবা বারেক খান ভীত ও অতিষ্ঠ হয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে শুভকে হত্যা করেন।
আরটিভি/এসআর



