গাইবান্ধা শহরের জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মুর্শিদ হক্কানী (৩৭) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে নির্মমভাবে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার যুবকের বড়ভাই আওরঙ্গ হক্কানী বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
শহরের ভি-এইড রোডে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে গাইবান্ধার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গণউন্নয়ন কেন্দ্র-জিইউকে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মুর্শিদ হক্কানী (২৮) একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। গত বছরের ২৮ অগাস্ট তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি করা হয়। পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে দেখা করতে পারত। কিন্তু পরবর্তীতে নানা অজুহাতে সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১১ ফেব্রুয়ারি আত্মীয়-স্বজনরা মুর্শিদ হক্কানীকে দেখার জন্য গেলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এলোমেলো ও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। এতে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে অনেক অনুরোধ করলে, বিকালে মুর্শিদ হক্কানীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান স্বজনরা। এ সময় মুর্শিদ হক্কানীর নাক, শরীরের একাধিক স্থানে কাটা, ছোলা-ফোলা ও আঘাত-জখমের চিহ্ন দেখা যায়। পরে কেন্দ্রের পাওনাদি পরিশোধ করে মুর্শিদকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাড়িতে গিয়ে মুর্শিদ হক্কানী কেন্দ্রে তার ওপর শারীরিক নিযাতন ও মারধরের বর্ণনা দেন। মুর্শিদকে কেন্দ্রের একটি আধাপাকা ঘরে মুখের ভেতরে কাপড় ঢুকিয়ে লোহার রড দিয়ে ডান ও বাম হাতে, পিঠে, দুই উরুতে, দুই পায়ের হাঁটুতে, নাকের উপর, বাম হাতের তালুতে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে মুশিদের দুই পা রশি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে মুর্শিদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মারধরের পর এসব কখা পরিবারকে না জানানোর জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
পরিবারের লোকজন পরে মুর্শিদ হক্কানীকে সেখান থেকে নিয়ে এসে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিইউকে মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কাউন্সিলর কাবিউল আজাদ বাদল বলেন, সঙ্গে থাকা অন্য রোগীদেরকে তিনি (মুর্শিদ হক্কানী) প্রায় মারধর করতেন। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য রোগীরা সবাই মিলে তাকে মারধর করেছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমআই




