নাটোরের লালপুর উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিজের শেষ সম্বল হারিয়ে এখন নির্বাক ও দিশেহারা এক দিনমজুর।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চামটিয়া গ্রামে মশার কয়েল থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুনে একটি গরু জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। নিজের আদরের গরুটিকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন মালিক মো. মিজানুর রহমান নিজেও। সহায় সম্বলহীন এই দিনমজুরের আয়ের একমাত্র উৎসটি এভাবে চোখের সামনে ছাই হয়ে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চামটিয়া গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান অত্যন্ত অভাবের সংসার সামলান দিনমজুরির কাজ করে। তার একমাত্র সম্পদ ছিল একটি গাভী। মঙ্গলবার রাতে গোয়ালঘরে মশা তাড়ানোর জন্য একটি কয়েল জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল। গভীর রাতে অসাবধানতাবশত সেই কয়েলের আগুন দ্রুত শুকনো খড়ে লেগে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ঘরটিকে গ্রাস করলে মিজানুর রহমান চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
নিজের একমাত্র সম্পদ গরুটিকে বাঁচাতে মিজানুর রহমান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্বলন্ত আগুনের ভেতরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তিনি শেষ পর্যন্ত গরুটিকে উদ্ধার করতে পারেননি। উল্টো আগুনের উত্তাপে তার হাতের একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে একটি গরুসহ সম্পূর্ণ গোয়ালঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
মিজানুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা অত্যন্ত দরিদ্র এবং এই গরুটির দুধ বিক্রি ও লালনপালন করেই তাদের সংসারের বাড়তি খরচ মিটত। এখন গরুটিকে হারিয়ে এবং নিজে আহত হয়ে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় মিজানুর রহমান পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা জানিয়েছেন, দিনমজুর মিজানুরের যে ক্ষতি হয়েছে তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব। বর্তমানে দগ্ধ মিজানুর রহমান স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন।
আরটিভি/এআর



