ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মাছের ঘেরের জালে আটকা ঈগল, অতঃপর...

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় মাছের ঘেরের জালে আটকা পড়ে একটি ঈগল পাখি আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার সময় উপজেলার রায়েন্দা গ্রামের মো. জাকির মিয়ার বাড়ির ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। জালে ঝুলতে থাকা ঈগলটি দেখতে পেয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ড টিমকে খবর দেন।

খবর পাওয়ার পর টিম লিডার আলম হাওলাদারের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঈগলটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে পাখিটি দুর্বল ও আতঙ্কিত অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

ওয়াইল্ড টিমের টিম লিডার আলম হাওলাদার জানান, উদ্ধারকৃত ঈগলটির বাম পায়ে আঘাত ও ক্ষত রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পাখিটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে আবারও প্রকৃতির মাঝে অবমুক্ত করা হবে।

ইয়ুথ ক্লাব শরণখোলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের সাধারণ সম্পাদক মো. তাইজুল ইসলাম জানান, আকার-আকৃতি, গায়ের বাদামি-খয়েরি রং ও ডানার গঠন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ক্রেস্টেড সার্পেন্ট ঈগল (সাপখেকো ঈগল) প্রজাতির পাখি। বনাঞ্চল ও জলাভূমি এলাকায় এ ধরনের ঈগল বেশি দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রজাতি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, মাছের ঘের বা ফসলি জমির জালে প্রায়ই পাখি আটকা পড়ে আহত হয়। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিরাপদ জাল ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং বিপদে পড়া প্রাণী দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে জানানো প্রয়োজন।

এদিকে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা পাখিটিকে তিলা নাগ ঈগল বলে চিহ্নিত করেন। আরটিভি অনলাইনকে তিনি জানান, পৃথিবীতে ৬৮ প্রজাতির ঈগল আছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া ১৭ প্রজাতির ঈগল। যার একটি এই তিলামাথা ঈগল। পাখিটি এলাকাভেদে তিলাবাজ বা ছিটবাজ অথবা খোপা ঈগল বা খোপাবাজ নামেও পরিচিত।

জোহরা মিলা বলেন, এটি শিকারি পাখি। এদের প্রধান খাদ্য সাপ। পুকুর, বিল, হাওর, বাওড় থেকে এরা সাপ ধরে খায়। এ কারণে পাখিটি তিলা নাগ ঈগল নামে খ্যাতি পেয়েছে। এই ঈগলের সংখ্যা ঠিক থাকলে সাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, এটি কমে গেলে সাপের সংখ্যা বাড়ে। পাখিটি ফসলের ক্ষেতের ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। পাশাপাশি অসুস্থ মাছ খেয়ে জলাশয়ের অন্যান্য মাছকে মহামারী রোগ থেকে বাঁচিয়ে দেয়।

তিনি জানান, তিলা নাগ ঈগল একা থাকতে পছন্দ করে। তবে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে প্রজননের সময় সঙ্গী খুঁজে নেয়। সাধারণত প্রাচীন ও বড় গাছে উঁচু ডালে বিশাল বাসা তৈরি করে। সেই বাসায় একটি মাত্র ডিম পাড়ে। কোনো কারণে ডিমটি নষ্ট হয়ে গেলে স্ত্রী পাখিটি দুই থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি ডিম পাড়ে। ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। বাচ্চাটি দেড় মাসেই উড়তে শিখে যায়।

মাছ চাষি মো. জাকির মিয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ড টিমের সদস্যদের দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে জোহরা মিলা আরও বলেন, প্রাচীন বৃক্ষ নিধনে আবাসস্থল কমে যাওয়া, দেশে মাছের খামারে বিষ ব্যবহার, এয়ারগান দিয়ে গুলি করে হত্যা ইত্যাদি কারণে ভীষণ উপকারী এই পাখিটি হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের সবার উচিত প্রাণীটির প্রতি যত্নবান হওয়া।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
বাগেরহাটে বিলুপ্তপ্রায় ‘তিলা নাগ’ ঈগল উদ্ধার
পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পাখি হার্পি ঈগল