বাগেরহাটের শরণখোলায় মাছের ঘেরের জালে আটকা পড়ে একটি ঈগল পাখি আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার সময় উপজেলার রায়েন্দা গ্রামের মো. জাকির মিয়ার বাড়ির ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। জালে ঝুলতে থাকা ঈগলটি দেখতে পেয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ড টিমকে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পর টিম লিডার আলম হাওলাদারের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঈগলটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে পাখিটি দুর্বল ও আতঙ্কিত অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে।
ওয়াইল্ড টিমের টিম লিডার আলম হাওলাদার জানান, উদ্ধারকৃত ঈগলটির বাম পায়ে আঘাত ও ক্ষত রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পাখিটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে আবারও প্রকৃতির মাঝে অবমুক্ত করা হবে।
ইয়ুথ ক্লাব শরণখোলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের সাধারণ সম্পাদক মো. তাইজুল ইসলাম জানান, আকার-আকৃতি, গায়ের বাদামি-খয়েরি রং ও ডানার গঠন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ক্রেস্টেড সার্পেন্ট ঈগল (সাপখেকো ঈগল) প্রজাতির পাখি। বনাঞ্চল ও জলাভূমি এলাকায় এ ধরনের ঈগল বেশি দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রজাতি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, মাছের ঘের বা ফসলি জমির জালে প্রায়ই পাখি আটকা পড়ে আহত হয়। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিরাপদ জাল ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং বিপদে পড়া প্রাণী দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে জানানো প্রয়োজন।
এদিকে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা পাখিটিকে তিলা নাগ ঈগল বলে চিহ্নিত করেন। আরটিভি অনলাইনকে তিনি জানান, পৃথিবীতে ৬৮ প্রজাতির ঈগল আছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া ১৭ প্রজাতির ঈগল। যার একটি এই তিলামাথা ঈগল। পাখিটি এলাকাভেদে তিলাবাজ বা ছিটবাজ অথবা খোপা ঈগল বা খোপাবাজ নামেও পরিচিত।
জোহরা মিলা বলেন, এটি শিকারি পাখি। এদের প্রধান খাদ্য সাপ। পুকুর, বিল, হাওর, বাওড় থেকে এরা সাপ ধরে খায়। এ কারণে পাখিটি তিলা নাগ ঈগল নামে খ্যাতি পেয়েছে। এই ঈগলের সংখ্যা ঠিক থাকলে সাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, এটি কমে গেলে সাপের সংখ্যা বাড়ে। পাখিটি ফসলের ক্ষেতের ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। পাশাপাশি অসুস্থ মাছ খেয়ে জলাশয়ের অন্যান্য মাছকে মহামারী রোগ থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
তিনি জানান, তিলা নাগ ঈগল একা থাকতে পছন্দ করে। তবে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে প্রজননের সময় সঙ্গী খুঁজে নেয়। সাধারণত প্রাচীন ও বড় গাছে উঁচু ডালে বিশাল বাসা তৈরি করে। সেই বাসায় একটি মাত্র ডিম পাড়ে। কোনো কারণে ডিমটি নষ্ট হয়ে গেলে স্ত্রী পাখিটি দুই থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি ডিম পাড়ে। ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। বাচ্চাটি দেড় মাসেই উড়তে শিখে যায়।
মাছ চাষি মো. জাকির মিয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ড টিমের সদস্যদের দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে জোহরা মিলা আরও বলেন, প্রাচীন বৃক্ষ নিধনে আবাসস্থল কমে যাওয়া, দেশে মাছের খামারে বিষ ব্যবহার, এয়ারগান দিয়ে গুলি করে হত্যা ইত্যাদি কারণে ভীষণ উপকারী এই পাখিটি হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের সবার উচিত প্রাণীটির প্রতি যত্নবান হওয়া।
আরটিভি/এমআই





