নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল মিয়ার ওপর হামলা করে পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনার ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রশাসন বা দল থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ তার মাথায় একাধিকবার আঘাত করলে দুলালের মাথা ফেটে যায় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এছাড়া হামলার সময় সাদিপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মনা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, নিজ দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা দলীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্যোগ নিয়েছি।
হামলায় আহত দুলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, হামলার প্রায় একমাস অতিবাহিত হলেও এখনও দল থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দল থেকে ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমি থানায় অভিযোগ করেছি৷ থানায় অভিযোগ করার পরে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন উপরমহলের অনুমতি ছাড়া আসামি গ্রেপ্তার বা তদন্ত করা যাবে না।
এর সত্যতা যাচাই করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিকদার হারুন অর রশিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলার তদন্ত কাজ চলমান, আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুম বলেন, এই ঘটনার আগে আমার কয়েকজন লোকের ওপর আক্রমণ করা হয়। পরে আবার তারা ফেরার পথে তাদের পথরোধ করে। এরপর প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমার নেতাকর্মীরা পাল্টা হামলা করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুলাল মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন নয়াপুর বাজারে একটি দলীয় কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তারা নয়াপুর সিটি মার্কেটের আল-ফাতাহ হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এ ঘটনায় দুলাল মিয়া বাদী হয়ে বুধবার (৪ মার্চ) সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। মামলায় সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান ভূইয়া (মাসুম), সাদিপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং সাদিপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম মনাকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ১নং আসামির নেতৃত্বে অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুলাল মিয়া, নাঈম, আলী, মাসুদ ও সালমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ২নং আসামি রামদা দিয়ে দুলাল মিয়ার মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে। এছাড়া লোহার পাইপ দিয়ে তার পায়ে আঘাত করে হাড় ভেঙে ফেলা এবং চোখে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়
এছাড়া হামলার সময় দুলাল মিয়ার কাছ থেকে নগদ ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আরটিভি/এমএইচজে




