ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি ভ্যাকসিনে বাড়তি দাম, পকেট ভরছে কর্মকর্তাদের

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির নির্ধারিত মূল্যের সরকারি ভ্যাকসিন বাড়তি দামে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারী করার অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চার উপসহকারি ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ অনিয়ম করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।

তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু ভ্যাকসিন ভেঙে বা নষ্ট হয়ে যায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়।

হাঁস-মুরগি পালনকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বড় মুরগির সরকারি ভ্যাকসিনের নির্ধারিত মূল্য ২৫ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা এবং বড় হাঁসের ভ্যাকসিন ৫০ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন উপসহকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ লোকমান, আবুল বসার, মো. মিজানুর রহমান ও শঙ্কর কৃষ্ণ দাস।

গবাদিপশু পালনকারীদের অভিযোগ, লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে আক্রান্ত পাঁচ মাত্রার এক বোতল গরুর ভ্যাকসিন সরকার নির্ধারিত মূল্য ২৫০ টাকা। এক বোতল ভ্যাকসিন থেকে পাঁচটি গরুকে একমাত্রা করে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু চারজন উপসহকারী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জহির গ্রামে গিয়ে একমাত্রা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে গরু প্রতি ৩০০ টাকা করে নেয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ২৫০ টাকা বাড়তি নেন। এছাড়াও গলাফুলা ও খুঁড়া রোগের ভ্যাকসিনের দামও বেশি নেন তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিন চার ভাগে ভাগ করে চার কর্মকর্তা নিজ নিজ তত্ত্বাবধানে রাখেন এবং বিক্রি করেন। তারা জানান, নিজ নিজ দায়িত্বে থাকা রেফ্রিজারেটরে (ফ্রিজ) সংরক্ষণ করে ভ্যাকসিন বিক্রি করা হয়।

জিন্নাগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীর বলেন, গরু অসুস্থ হলে চরফ্যাশন পশু হাসপাতালে যাই। হাসপাতাল থেকে জহির স্যার এসে গরু দেখে যায়। কিছুদিন আগে জহির স্যার আমার তিনটা গরুকে লাম্পি রোগের ভ্যাকসিন দিয়ে গেছেন। তিনি ৩০০ টাকা করে ৯০০ টাকা নিয়েছে। এছাড়া তাকে আসা-যাওয়ার তেল খরচও দিয়েছি।

জিন্নাগড় ইউনিয়নের আরও এক বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, চরফ্যাশন পশু হাসপাতালের লোকমান স্যারে আমার চারটি গরুকে ভ্যাকসিন দিয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা নিয়েছেন।

জিন্নাগড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফারুক বলেন, আমি বিশ বছর ধরে গরু লালনপালন করে আসছি। জহির স্যার খরচ বেশি নেন। কিছুদিন আগে জহির স্যার আমার বাড়িতে এসে একটা গরুর ডেলিভারি করিয়ে দুই হাজার টাকা চেয়েছে, আমি ১ হাজার টাকা দিলে ওই টাকা ছুড়ে ফেলে দেয়, পরে দুই হাজার টাকা দিয়েছি।

অভিযোগের সত্যতা জানতে সোমবার (৯ মার্চ) প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আমিনাবাদ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলাল পাটোয়ারী বাচ্চা মুরগির চোখের ভ্যাকসিন কিনতে গেলে উপসহকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ লোকমান তাকে বলেন, এখন ভ্যাকসিন নেই, আগামী সপ্তাহে পাবেন। ভ্যাকসিনগুলো বাড়িতে রেখেছি।

সরকারি ভ্যাকসিন বাসায় রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে লোকমান বলেন, ‘অফিসের ফ্রিজে জায়গা নেই, তাই বাড়িতে রাখছি।’ পরবর্তীতে ওই ক্রেতা বড় হাঁসের ১০০ মাত্রার একটি ভ্যাকসিন ৬০ টাকা এবং মুরগির ১০০ মাত্রার একটি ভ্যাকসিন ৩০ টাকায় কিনে নেন। যদিও ওই কক্ষে চারটি ফ্রিজ সংরক্ষিত রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রানীক্ষেত (বিসিআরডিবি ও আরডিবি) টিকা ৭ লাখ ৫৪ হাজার, ফ্রিজিয়ান ২ হাজার, গামবোরো ৩৫ হাজার, ডাকপ্লেগ ৩৪ হাজার, ফাউল কলেরা ৫৬ হাজার, ফাউল পক্স ৪২ হাজার, তড়কা ৫ হাজার ১০০, বাদলা ৩ হাজার ৮০০, গলাফুলা ২ হাজার ৯০০, এলএসডি ৩৬ হাজার এবং গোটপক্স ৯০ মাত্রা বিক্রি হয়েছে।

কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি বোতলে ১০০ মাত্রা (ডোজ) তরল ভ্যাকসিন থাকে, যা গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

দক্ষিণ আইচা থানা এলাকা থেকে ভ্যাকসিন কিনতে আসা জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারি ভ্যাকসিন নির্ধারিত দামে পাওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। না দিলে নানান অজুহাত দেখানো হয়।

জিন্নাগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মোস্তফা বলেন, আমি প্রায় ১০০টি মুরগি পালন করছি। মুরগিগুলো অসুস্থ হলে চরফ্যাশন ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ নিয়ে আসি। কিন্তু সেখানে কলেরার ওষুধ ৬০ টাকা এবং চোখের ওষুধ ৩০ টাকা করে রাখা হয়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি।

বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে উপসহকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ লোকমান বলেন, আমি টাকা নেইনি।

অফিস সহকারি হয়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার অনুমতি আছে কি না? জবাবে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জহির বলেন, আমি কোন ধরনের পশু শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করিনি। এছাড়াও আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি।

উপসহকারি কর্মকর্তা আবুল বাশারকে একজন খামারি পরিচয়ে মুঠোফোনে কল দিয়ে লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগের ভ্যাকসিনের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি কি আগে ভ্যাকসিন কিনেন নাই? আমি দোকান থেকে কিনেছি। দোকানদার কত চেয়েছে? ২ হাজার ২০০ টাকা চেয়েছে। তিনি বলেন, তাহলে আমি আপনার কাছ থেকে অর্ধেক দাম রাখবো।

উপসহকারি কর্মকর্তা শংকর কৃষ্ণদাস, মিজানুর রহমানকে কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোন কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রাজন আলী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি ভ্যাকসিন নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চার দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ২১ জেলে
সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলের চার দিন পার হলেও এখনও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জিম্মি জেলেরা কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছেন, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 
চার দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ২১ জেলে
মিরপুরের ক্রিকেট মঞ্চে কচুয়ার সন্তান ইরফান আহমেদ তুষার
ছোটোবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ছিল অদম্য ভালোবাসা। সকাল-বিকেল টেপ টেনিস বল হাতে মাঠে ছুটে বেড়ানো ছিল নিত্যদিনের অভ্যাস।
মিরপুরের ক্রিকেট মঞ্চে কচুয়ার সন্তান ইরফান আহমেদ তুষার
ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে স্কুলের গেটে কিশোর, অতঃপর...
শরীয়তপুরের জাজিরায় এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক কিশোরকে কান ধরে উঠবস করানোর পর মাথা ন্যাড়া করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে স্কুলের গেটে কিশোর, অতঃপর...
খাল সংস্কারের আংশিক কাজ করেই ৩০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় খাল সংস্কারের কাজ আংশিক করেই ৩০ লাখ ৩ হাজার ৫৩৬ টাকার পুরো বিল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে খালের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের পলি-ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, খননের পাশাপাশি পাড় সংস্কার, বেড ব্লক ও টিবিএম নির্মাণের কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
খাল সংস্কারের আংশিক কাজ করেই ৩০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন
কচুয়ার হাসপাতালেই সফল অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সাপে কাটা এক শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (এএসভি) প্রয়োগ করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ ও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনায় শিশুটির প্রাণ রক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
কচুয়ার হাসপাতালেই সফল অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ
আরও পড়ুন
নতুন প্রজ্ঞাপনে মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন যে পরিমাণ সম্মানি পাবেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ পদে চাকরি
দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েও মিলছে না ‘কাঙ্ক্ষিত সেবা’
সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই সোনার আংটি, কারা পাবেন এই সুবিধা?