বান্দরবানে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব, থামছেই না পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬ , ০৯:২৫ পিএম


বান্দরবানে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব, থামছেই না পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য
ছবি: আরটিভি

বান্দরবানে থামছেই না অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে বড় বড় পাহাড়। বসতবাড়ি নির্মাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, ইটভাটা এবং রাস্তা তৈরির নামে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানায় প্রভাবশালীরা নামে-বেনামে এসব পাহাড় কেটে ফেলছে।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে ভূমিধসের আশঙ্কা, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য। তাই পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় পাহাড় কাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সমতলের তুলনায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রকৃতি ভিন্ন। এ জেলায় রয়েছে বড় বড় পাহাড়, বনাঞ্চল এবং সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য। চারদিকে উঁচু-নিচু পাহাড় থাকায় সমতল ভূমির পরিমাণ তুলনামূলক কম। ফলে বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তুলেছে জেলার লক্ষাধিক মানুষ।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, ইটভাটা ও রাস্তা তৈরিসহ নানা অজুহাতে প্রতিনিয়ত স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার কাজ চলছে। শহরের বনরূপা, কালাঘাটা, বালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটা, রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন, লেমুঝিরি, বাকিছড়া, ফজর আলী পাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাহাড় কাটার এই মহোৎসব।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও কোনোভাবেই থামছে না পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য।

বিজ্ঞাপন

অবাধে পাহাড় কাটার ফলে দিন দিন বাড়ছে ভূমিধসের আশঙ্কা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় পাহাড়ধসের ঝুঁকি, প্রায়ই ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। তাই পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে নামে-বেনামে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

বান্দরবান পৌর এলাকার বাসিন্দা খালেদ বলেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই বান্দরবানে শুরু হয় পাহাড় কাটা। এখানে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে নামমাত্র জরিমানা করলেও কার্যত বন্ধ হচ্ছে না এই কর্মকাণ্ড। এতে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এভাবে যদি পাহাড় নিধন চলতে থাকে, তাহলে অচিরেই পর্যটন নগরী বান্দরবান পাহাড়শূন্য হয়ে পড়বে। তাই পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান সচেতন মহল।

আরও পড়ুন

এদিকে পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সময়ের সঙ্গে পাহাড় কাটার সিন্ডিকেটের পরিবর্তন ঘটে। যারা পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বান্দরবানে পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত এক বছরে ৬৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও এনফোর্সমেন্ট মামলার মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া আদালতে আরও ১৫টি মামলা চলছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission