ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বান্দরবানে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব, থামছেই না পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ছবি: আরটিভি

বান্দরবানে থামছেই না অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে বড় বড় পাহাড়। বসতবাড়ি নির্মাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, ইটভাটা এবং রাস্তা তৈরির নামে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানায় প্রভাবশালীরা নামে-বেনামে এসব পাহাড় কেটে ফেলছে।

এর ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে ভূমিধসের আশঙ্কা, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য। তাই পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় পাহাড় কাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সমতলের তুলনায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রকৃতি ভিন্ন। এ জেলায় রয়েছে বড় বড় পাহাড়, বনাঞ্চল এবং সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য। চারদিকে উঁচু-নিচু পাহাড় থাকায় সমতল ভূমির পরিমাণ তুলনামূলক কম। ফলে বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তুলেছে জেলার লক্ষাধিক মানুষ।

শুধু তাই নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, ইটভাটা ও রাস্তা তৈরিসহ নানা অজুহাতে প্রতিনিয়ত স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার কাজ চলছে। শহরের বনরূপা, কালাঘাটা, বালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটা, রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন, লেমুঝিরি, বাকিছড়া, ফজর আলী পাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাহাড় কাটার এই মহোৎসব।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও কোনোভাবেই থামছে না পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য।

অবাধে পাহাড় কাটার ফলে দিন দিন বাড়ছে ভূমিধসের আশঙ্কা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় পাহাড়ধসের ঝুঁকি, প্রায়ই ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। তাই পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে নামে-বেনামে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

বান্দরবান পৌর এলাকার বাসিন্দা খালেদ বলেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই বান্দরবানে শুরু হয় পাহাড় কাটা। এখানে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে নামমাত্র জরিমানা করলেও কার্যত বন্ধ হচ্ছে না এই কর্মকাণ্ড। এতে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট।

তিনি আরও বলেন, এভাবে যদি পাহাড় নিধন চলতে থাকে, তাহলে অচিরেই পর্যটন নগরী বান্দরবান পাহাড়শূন্য হয়ে পড়বে। তাই পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান সচেতন মহল।

আরও পড়ুন

এদিকে পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সময়ের সঙ্গে পাহাড় কাটার সিন্ডিকেটের পরিবর্তন ঘটে। যারা পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বান্দরবানে পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত এক বছরে ৬৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও এনফোর্সমেন্ট মামলার মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া আদালতে আরও ১৫টি মামলা চলছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চাঁদা না পেয়ে সাইকেল মেকারকে মারধর, অতঃপর...
নওগাঁর মান্দায় এক সাইকেল মেকারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির মামলায় আল আমিন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঁদা না পেয়ে সাইকেল মেকারকে মারধর, অতঃপর...
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমবে
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। 
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমবে
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ফরিদপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জেলার নগরকান্দা উপজেলায় মিরাজ শেখের বাড়ির সামনে খেলছিল ওই মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় কৌশলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন মিরাজ। সেখানে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর আদালতে মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মামলায় মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আরটিভি/এসআর  
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
‘নজরানা বাঁশের ভুর’, ১৮ দিনের যাত্রায় আটরশির পথে ভক্তরা
ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফে অংশ নিতে রংপুরের পীরগঞ্জে প্রায় দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে ‘নজরানা বাঁশের ভুর’ তৈরির। বাঁশ দিয়ে তৈরি এই ভুরটি নিয়ে দীর্ঘ নদী পথ পাড়ি দিয়ে আটরশি দরবার শরীফে যাবেন জাকের ও ভক্তরা।
‘নজরানা বাঁশের ভুর’, ১৮ দিনের যাত্রায় আটরশির পথে ভক্তরা
‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের রিলে আলোচিত সেই বিউটি হলেন জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল রিল ভিডিও ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, জেলার সব কটি উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্যে থেকে চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে বিউটি পালও রয়েছেন।  সিলেট জেলার অন্য শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা হলেন— সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস। গত সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদের সই করা স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করা হলেও সেই তালিকায় বিউটি রানী পালের নাম ছিল না। এর আগে গত ২৩ জুলাই ‘ডিফরেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানের একটি কলি ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ ব্যবহার করে একটি রিল ভিডিও নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন বিউটি রানী পাল। পরবর্তীতে ভিডিওটি একটি ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক তথ্য যুক্ত করে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রল শুরু হয়। বুলিংয়ের মুখে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে নেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশের শত শত নারী শিক্ষক একই গানের সঙ্গে নিজেদের ছবি ও ভিডিও যুক্ত করে ফেসবুকে আপলোড করেন। শিক্ষক সমাজের এই অভিনব প্রতিবাদে পরবর্তীতে নানা শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। শিক্ষাগত জীবনে বিউটি রানী পাল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি এলাকায় অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন।  এর আগেও তিনি একবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফেসবুকে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা ও নাচের ছন্দে পড়াশোনা শেখানোর শিক্ষামূলক ভিডিও নিয়মিত আপলোড করার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে তিনি দারুণ জনপ্রিয়। আরটিভি/এসআর
‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের রিলে আলোচিত সেই বিউটি হলেন জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক
আরও পড়ুন
পাহাড়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন এডিবির
গারো পাহাড়ে মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্য, সাংবাদিক ঢুকলেই হত্যার হুমকি
প্রেমিকাকে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে ৪ বন্ধু মিলে রাতভর ধর্ষণ, অতঃপর...
গাছের সাদা কষেই বদলাচ্ছে পাহাড়ি জনপদের অর্থনীতি!