শিশু ধর্ষণ মামলার আপস না করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সমাজচ্যুতের অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬ , ১০:৫৫ পিএম


শিশু ধর্ষণ মামলার আপস না করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সমাজচ্যুতের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আপস না করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সমাজচ্যুত করা, হামলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা ফারুক মিয়াকে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ফারুক মিয়া রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সাংবাদিকদের কাছে বিচার দাবি করেন এবং কয়েকদিন আগে মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী ফারুক মিয়া উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ ফারুক মিয়ার মেয়েশিশুকে মাধবপুর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় এক ইমামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে মামলা তুলে নিতে স্থানীয় শহীদ মিয়ার ছেলে সালাম মিয়া ও তার সহযোগীরা ফারুক মিয়ার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। গত ৬ মার্চ দুপুরে তাকে মারধর করা হয় এবং ফোনে হুমকিও দেওয়া হয়।

ফারুক মিয়ার দাবি, এ সংক্রান্ত কল রেকর্ডও তার কাছে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মামলায় আপস না করায় প্রভাবশালী সালাম মিয়া ও তার লোকজন তাদের সামাজিকভাবে একঘরে করে দিয়েছে। ফারুক মিয়াকে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং গ্রামের অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া ও জাহার মিয়া বলেন, ফারুক মিয়ার পরিবারকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। তাকে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সালাম মিয়া বলেন, কাউকে একঘরে করা হয়নি। ফারুক মিয়া নিজেও ভালো মানুষ নন। এলাকাবাসী মিলে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ শ্রমিক মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম খোকন বলেন, কাউকে সমাজচ্যুত করা বা মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী। এটি মধ্যযুগীয় বর্বরতার শামিল। ভুক্তভোগী ফারুক মিয়া একজন শ্রমজীবী ট্রাকচালক। এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, ভিকটিম পরিবারকে কোনো ধরনের হয়রানি করা হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মোর্শেদ খান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission