উত্তরের সমতলে চা উৎপাদনে রেকর্ড

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ০১:৩৯ পিএম


উত্তরের সমতলে চা উৎপাদনে রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় (পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী) প্রতি বছরই বাড়ছে চায়ের আবাদ, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎপাদনও। 

বিজ্ঞাপন

সদ্য সমাপ্ত (২০২৫) মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ১১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৮৯ একর সমতল জমির ৩০টি চা বাগান এবং ৮ হাজারেরও অধিক ক্ষুদ্রায়তনের চা বাগান থেকে চা উৎপাদন হয়েছে দুই কোটি দুই লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি। যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৫৮ দশমিক ১ লাখ কেজি বেশি।

শনিবার পঞ্চগড়স্থ বাংলাদেশ চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমির হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

চা বোর্ড জানায়, এ বছর এসব বাগান থেকে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬১১ কেজি সবুজ কাঁচা চা পাতা উত্তোলন করা হয়। যা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের চলমান ৩১ টি কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে দুই কোটি দুই লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি চা উৎপাদন করা হয়েছে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় চা চাষের পরিধি বাড়ছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই কোটি কেজি তৈরি চা উৎপাদনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, শীতের কারণে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের সমতলভূমির চা বাগানগুলোতে নতুন মৌসুমে চা পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। নতুন কুঁড়ি পাতায় আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে চা বাগানগুলো। প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে সবুজ চা পাতা সরবরাহ কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় চা কারখানাগুলো। প্রায় দুই মাস পর আবারও উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি মৌসুম শুরু হতে মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন মৌসুমের শুরুতেই সবুজ চা পাতার দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বটলিফ কমিটির নির্ধারিত দর ২৮ টাকা হলেও বর্তমানে সবুজ চা পাতা প্রতি কেজি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পূর্ণমাত্রায় চা পাতা উত্তোলন শুরু হলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন কারখানাগুলো।

বিজ্ঞাপন

চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় মোট ১১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৮৯ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৭৩ দশমিক ২ একর বেশি।

এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলার পাঁচ উপজেলায় ৯ হাজার ৮১৯ দশমিক ৭৩ একর জমিতে চা আবাদ হয়েছে। এসব বাগান থেকে আট কোটি ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪০ কেজি সবুজ চা পাতা সংগ্রহ করে এক কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৬ কেজি তৈরি চা উৎপাদন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলায় ১ হাজার ৪৫৭ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। গত মৌসুমে এসব বাগান থেকে এক কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৫৭ কেজি সবুজ চা পাতা থেকে ২৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬৪ কেজি তৈরি চা উৎপাদিত হয়েছে।

এছাড়া লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ৩২২ দশমিক ৮৭ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এসব এলাকা থেকে উৎপাদিত সবুজ চা পাতা পঞ্চগড়ের কারখানাগুলোতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

বর্তমান সময়ে উত্তরাঞ্চলে ৪৮টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার অনুমোদন দিয়েছে চা বোর্ড। এর মধ্যে পঞ্চগড়ে ৩০টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একটি কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানাগুলো চা চাষিদের কাছ থেকে সবুজ চা পাতা কিনে তা থেকে তৈরি চা উৎপাদন করে। পরে সেই চা পঞ্চগড়, চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের নিলাম বাজারে বিক্রি করা হয়।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আমির হাসান বাসসকে বলেন, পঞ্চগড়সহ উত্তরের সমতল অঞ্চলে চা চাষ দেশের চায়ের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পার্বত্য অঞ্চলকে পেছনে ফেলে দেশের চা উৎপাদনে এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এ অঞ্চল। 

তিনি বলেন, চা আবাদি জমি বাড়ার পাশাপাশি মানসম্মত পাতার কারণে এখানকার চায়ের অকশন বাজারে চাহিদাও বাড়ছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে আড়াই কোটি কেজি তৈরি চা উৎপাদন সম্ভব হবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission