ভিজিএফের চাল দিতে না পেরে কাঁদলেন চেয়ারম্যান, ভিডিও ভাইরাল

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৪২ পিএম


ভিজিএফের চাল দিতে না পেরে কাঁদলেন চেয়ারম্যান, ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভিজিএফের চাল দিতে না পেরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল। এ ঘটনায় তার কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত জনতার সামনে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল হাউমাউ করে কাঁদছেন এবং চাল বিতরণে বাধার অভিযোগ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাপমারা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ২ হাজার ৭৮৮টি ভিজিএফ স্লিপের মধ্যে ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৫৮টি স্লিপ বিএনপির জন্য নির্ধারিত ছিল। বাকি ২ হাজার ২৩০টি স্লিপ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, যেখানে প্রত্যেক সদস্য পান ২০০টি করে স্লিপ। 

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সারোয়ার হোসেন চৌধুরী বরাদ্দ পাওয়ার পরও চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ২০০টি এবং প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে ২০টি করে স্লিপ জোরপূর্বক করে নিয়ে নেন। এছাড়া কয়েকজন সদস্যের কাছে অতিরিক্ত স্লিপ দাবি করা হয়, যা নিয়ে বিপাকে পড়েন জনপ্রতিনিধিরা। কারণ তারা আগেই তালিকা তৈরি করে চাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। 

সংরক্ষিত নারী সদস্য সুমি আক্তার অভিযোগ করেন, জোর করে স্লিপ নেওয়া হয়েছে এবং পরে আবার অতিরিক্ত দাবি করা হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

আরেক নারী সদস্য ফরিদা বেগম জানান, তার কাছে ২০০ জন উপকারভোগীর তালিকা থাকলেও তাকে ৯০টি স্লিপ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কিছু চাল তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল বলেন, আমরা ভয়ে স্লিপ দিতে বাধ্য হয়েছি। এরপরও আরও স্লিপ দাবি করা হলে না দেওয়ায় চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। আমি সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করতে পারিনি, অসুস্থ হয়ে পড়ি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, এখনও ১৪২ বস্তা চাল বিতরণ বাকি রয়েছে। 

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সারোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোনো স্লিপ নেইনি বা কাউকে হুমকি দেইনি। চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান ও কিছু সদস্য অনিয়মের মাধ্যমে স্লিপ বণ্টন করেছেন এবং বিষয়টি ধরা পড়ায় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission