কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি গেটম্যান মো. হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে জেলার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকা থেকে হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে অবস্থিত ই/৪৭ নম্বর রেলগেটের অস্থায়ী গেটম্যান ছিলেন।
মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. মেহেদী (৩৩) হাসান এখনও পলাতক। তিনি এই রেলক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাত। তিনি জানান, অপর পলাতক আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। গ্রেপ্তার হওয়া হেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র্যাব বিস্তারিত তথ্য প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানাবে বলে জানা গেছে।
এর আগে, সোমবার (২৩ মার্চ) পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার। তিনি নিহত সোহেল রানার খালা এবং কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাসিন্দা।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন জানান, দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। শেফালী আক্তার নিজেও ওই বাসের যাত্রী ছিলেন।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ও 'মামুন স্পেশাল' নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। এতে জন আহত হন অন্তত আরও ১৫। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেন আসার সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট সময়মতো বন্ধ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আরটিভি/এমএ



