ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সিন্ডিকেটের কবলে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন, মাসে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব লোপাট

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে মাসে সরকারের প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এই সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (কমার্শিয়াল) মো. শাহীনুর ইসলামের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটটি স্টেশন কেন্দ্রিক এক বিশাল দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, যার ফলে প্রতি বছর সরকারের কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্টেশনের সংরক্ষিত টিকিট নিয়ন্ত্রণ করে একটি চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন শতাধিক টিকিট অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়লেও সিন্ডিকেট সদস্যরা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

আরও পড়ুন

স্টেশনজুড়ে অনিয়ম যেন নিত্যদিনের চিত্র। প্রবেশপথে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিনা টিকিটের যাত্রীদের অবাধ যাতায়াত চলছে। প্লাটফর্মে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিনা টিকিটের যাত্রীদের ধরা হলেও পরে টিকিট চেকারদের কক্ষে নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। ট্রেনের ওয়াশরুমে নেই ন্যূনতম সুবিধা, নেই টিস্যু বা সাবান। সেবার জন্য বরাদ্দ অর্থও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি টিআইসি শাহীনের অফিসে কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় যাত্রীরা অভিযোগ জানানোর সুযোগও পান না। অধিকাংশ সময় অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, খাবার গাড়ি ও নামাজের বগিতেও অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয়। ফলে যাত্রীরা যেমন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশন কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও ট্রেনে উঠলেই দেখা যায় ভিড়। দায়িত্বরত কর্মীরা সরাসরি টাকা নিয়ে যাত্রী উঠায় এবং টিকিট কাটতে নিরুৎসাহিত করে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সিন্ডিকেট সদস্যরা লাভবান হচ্ছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ স্টেশন সুপার আবদুল্লাহ আল হারুন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও সরাসরি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত টিআইসি শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার দায়িত্ব সম্পর্কে সরকারই অবগত এবং এসব বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না।

রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মহববতজান চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঢাকা থেকে কর্মকর্তাদের পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বগুড়ায় ট্রাক উল্টে পড়ল প্রাইভেট কারের উপর, নিহত ২
বগুড়ার শাজাহানপুরে একটি প্রইভেট কারের উপর ট্রাক উল্টে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
বগুড়ায় ট্রাক উল্টে পড়ল প্রাইভেট কারের উপর, নিহত ২
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হবে। 
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
আরও পড়ুন
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ফ্লেভারিং ক্যাপসুল সিগারেট বিক্রিতে কড়াকড়ি
জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন
সিন্ডিকেটে বেহাত হচ্ছে ময়মনসিংহের শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি