সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের কাইল্যাচর গ্রামে সম্ভাব্য দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ফেসবুকে কটুক্তিমূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে কাইল্যাচর গ্রামের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এ সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চরমহল্লা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী নেতা আল আমিন ও ফুলতলী সংগঠন ইসলাহ নেতা মাওলানা নজমুল হক নসিবের সমর্থকদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে ভিজিএফের চালের কার্ড নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তিমূলক পোস্ট করা হলে পরিস্থিত আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে গতকাল শুক্রবার রাতে উভয়পক্ষের কর্মীসমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একে অপরকে মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান। এর জেরে আজ শনিবার সকালে কাইল্যাচর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। গুরুতর আহত ৭ জনকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আল আমিন বলেন, আমাকে উদ্দেশ্য করে সম্প্রতি ফেসবুকে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়। গতকাল রাতে আমার পক্ষের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দোকানে গিয়ে মিলন নামের একজনকে মারধর করেন নজমুল হক নসিবের লোকজন। শনিবার সকালে নসিবের লোকজন আমার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও দোকানপাট ভাংচুর করেছে।
অন্যদিকে নজমুল হক নসিব বলেন, আমি ভিজিএফের কার্ডের সুবিধাভোগী হওয়ায় আল আমিন কয়েকজন লোক নিয়ে আমাকে বিদ্রুপ করে। ফেসবুক তার সমর্থক অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেয়। এরপর আল আমিনের লোকজন আমার লোকজনের উপর হামলা করেছে।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, কাইল্যাচর গ্রামে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন গ্রামের পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
আরটিভি/এমএম




