কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বরাটিয়া আলিম মাদরাসার গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপারিনটেনডেন্ট মৃত মাওলানা রইছ উদ্দিনের এক ছেলে ডা. শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম মাদরাসার কমিটির সভাপতি হতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী তিনি সভাপতি হতে না পেরে প্রতিহিংসায় মাদরাসার গাছ কেটে বিক্রি করে দেন।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আছআদ উল্লাহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলা বরাটিয়া এলাকার মাওলানা রইছ উদ্দিনের ছেলে ডা. শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম, শরিফ মিয়া ও ফারুক মিয়া।
সরেজমিনে মাদরাসা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পাশে প্রায় ১৩টি ফলজ ও বনজ গাছসহ মোট ৩০টি গাছ গোড়া থেকে কেটে বিক্রি করে দেন অভিযুক্তরা। গাছগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকার বেশি।
মাদরাসার দলিল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে পাকুন্দিয়ার প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা রইছ উদ্দিন বরাটিয়া আলিম মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৮৬ সালে উপজেলার বরাটিয়া মৌজায় ৩২ নং খতিয়ানভুক্ত সাবেক ২১৮ দাগে ৩১ শতাংশ, ৪৪৩ দাগে ২৭ শতাংশ, ৪৪৪ দাগে ৩ শতাংশ, ৪৪৫ দাগে ২০ শতাংশ ও ১৯৯ দাগে ১৯ শতাংশসহ মোট ১০০ শতাংশ জায়গা বরাটি আলিম মাদরাসার নামে হেবা দলিল মূলে দান করেন। ওই সময় মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট থাকাকালীন তিনি মাদরাসার চতুর্পাশে ৩০-৩৫টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করলে বর্তমান অধ্যক্ষ আছআদ উল্লাহ ১৯৯৬ সালে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গাছগুলো পরিচর্যা করে আসছেন।
কিন্তু গত ২১ জানুয়ারি মাদরাসার গাছগুলো রইছ উদ্দিনের তিন ছেলে একত্রিত হয়ে তাদের বাবার পৈত্রিক সম্পদ দাবি করে জোরপূর্বক গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেয়। প্রতিবাদ করলে তারা মাদরাসার জায়গায় পুকুর খননের হুমকি দেয় বলেও স্থানীয়রা জানান।
মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আছআদ উল্লাহ জানান, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা রইছ উদ্দিন একশ শতাংশ জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে দান করে গেছেন। বর্তমানে তার এক ছেলে ডা. শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম মাদরাসার কমিটির সভাপতি হতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সভাপতি হতে না পেরে প্রতিহিংসায় মাদরাসার গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়।
আছআদ উল্লাহ আরও জানান, তারা মাদরাসার খেলার মাঠে পুকুর খননের উদ্যোগ নেয়। প্রশাসন ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পুকুর খননে সফল হতে না পেরে মাদরাসার গাছগুলো কেটে নিয়েছে।
বরাটিয়া গ্রামের হারুন মিয়া জানান, মাদরাসার অনেকগুলো সরকারি গাছ সাদ্দাম, ফারুক, শরিফ নিজের বাবার দাবি করে জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যায়। গাছগুলো কাটায় মাদরাসায় এখন কোনো বৃক্ষের ছায়া নেই, শুধু রোদ।
মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মো. আবু হুসাইন জানান, গাছ কাটার সময় আমাদের শিক্ষকগণ বাধা দিয়েছে। কিন্তু তারা জোরপূর্বক গাছগুলো কেটেছে এবং এ সময় অধ্যক্ষ স্যারের ওপর হামলা চালাতে চেয়েছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার বাবা এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। তিনি মাদরাসার জন্য একশ শতাংশ জায়গা দান করেছেন। বাবার ইন্তেকালের সময় আমরা ছোট ছিলাম। সেই সুযোগে আমার চাচাতো ভাই বর্তমান মাদরাসার অধ্যক্ষ আছআদ উল্লাহ আমাদের জমিজমা মাদরাসার নামে দখল করে ভোগ করে আসছেন এবং আমাদের ব্যক্তিগত জমিতে মাদরাসার বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, আমরা মাদরাসার কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জমি ফেরত চাইলে বর্তমান ৬২৬ নং দাগের সাথে আমাদের ৬২১ নং দাগের জমির এওয়াজ বদল হয়। এওয়াজ বদল রেজিষ্ট্রির পর আমরা নিজেদের জমি থেকে কয়েকটি গাছ কেটে জায়গাতে মাটি ফেলার ব্যবস্থা করি। এতে তিনি আমি ও আমার ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
এছাড়াও ইউএনও, সেনাবাহিনী এবং ওসি ঘটনাস্থলে এসে আমাকে গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন বলেও জানান শফিকুল।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি অবগত হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই অধ্যক্ষকে মোবাইলে কল দিয়েছি এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএম




