ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ধর্ষণের পর চাপে ফেলে সাহিদাকে বিয়ে করেন মোনাইদ, অতঃপর...

নেত্রকোনা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সাহিদা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে মারা গেছেন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর, ভাসুর-ননদসহ পরিবারের ৭ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) থানায় এ মামলা করা হয়েছে।

নিহত সাহিদা আক্তার উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে।

অভিযুক্তরা হলেন—সাহিদার স্বামী মোনাইদ হোসেন (২৭), শ্বশুর মো. শফিকুল ইসলাম (৫৫), ভাসুর জুনাইদ হোসেন (৩২), ননদ মোসা. চম্পা আক্তার (১৯) এবং মামা-শ্বশুর মো. আতিকুর রহমান মন্ত্র (৫৫), কাজল মিয়া (৪৬) ও আব্দুল বারেক (৬২)। তারা সবাই একই উপজেলার পাশ্ববর্তী বাখরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর খানেক আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে সাহিদার বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত বছরের আগস্টে নানা বাহানায় বাড়িতে গিয়ে সাহিদাকে ধর্ষণ করেন মোনাইদ হোসেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও করেন সাহিদা। মামলা থেকে বাঁচতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাহিদাকে বিয়ে করেন মোনাইদ। এক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেন সাহিদা।

কিন্তু বিয়ের পর স্বামী মোনাইদসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পরে যৌতুক হিসেবে ছয় লাখ টাকা বাড়ি থেকে এনে দিতে বলেন মোনাইদ। দরিদ্র বাবার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সাহিদা। এতে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে পিটিয়ে জখম করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৯ মার্চ দুপুরে বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন সাহিদা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর রাতেই তিনি মারা যান।

পরে ১ এপ্রিল নিহতের বাবা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে সাহিদার স্বামী মোনাইদ, শ্বশুরসহ পরিবারের সাত জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। এতে আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগীর বাবা শহিদ মিয়া বলেন, মোনাইদ মাদকসেবন করেন, জুয়া খেলেন। ধর্ষণের পর চাপে ফেলে আমার মেয়েকে তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য মারধর শুরু করেন তিনি। যৌতুক দিতে না পারায় গালাগাল করে তারা সাহিদাকে বলে—‘কত মানুষ আত্মহত্যা করে, তুই আত্মহত্যা করে মরতে পারস না।’ তাদের মারধর, গালাগাল ও অপমান-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সাহিদা বিষ পান করে মারা গেছেন। আমি এর বিচার চাই। মামলার পর আসামিরা এলাকায় ঘুরছে, পুলিশ তাদের ধরছেন না।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলমান রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাদরাসাছাত্রের শরীরে ব্যথার কারণ থেকে মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’
নড়াইল সদর উপজেলায় আট বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাস থেকে অভিযুক্ত কিশোর বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে বলাৎকার করেছিল বলে অভিযোগ। সবশেষ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদরাসার পাশের একটি স্থানে নিয়ে শিশুটিকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি মাদরাসার এক শিক্ষক জানতে পারেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য শিশুটিকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটির শরীরে তীব্র ব্যথা শুরু হলে সে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। বুধবার সকালে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে শিশুটির মা দুপুরে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে। পরে অভিযুক্ত কিশোরসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আরটিভি/এসএস
মাদরাসাছাত্রের শরীরে ব্যথার কারণ থেকে মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’
থানায় ভাঙচুর চালাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১৭ কিশোর 
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়ার পর ১৭ কিশোর কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ভেতর ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানায় ভাঙচুর চালাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১৭ কিশোর 
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক নারী দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকলেও তাকে উদ্ধারের বদলে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন আশপাশের অনেকে।
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা
মঠবাড়িয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ থাকলেও নেই ব্লাড ব্যাংক
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার নাম ব্লাড ব্যাংক। উপজেলায় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো স্থায়ী ব্লাড ব্যাংক বা আধুনিক রক্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের স্বজনদের ছুটতে হয় দিশেহারা হয়ে। সময়মতো রক্ত না পেয়ে অনেক সময় সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
মঠবাড়িয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ থাকলেও নেই ব্লাড ব্যাংক
কুমিল্লায় রাতভর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৬২৪
কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
কুমিল্লায় রাতভর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৬২৪
আরও পড়ুন
ধর্ষণ মামলায় বিচারের মুখোমুখি হাকিমি
গোসলের সময় ব্যথায় কেঁদে ওঠে ২ বছরের শিশু, কারণ জানতেই হতভম্ব স্বজনরা
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ছেলেকে গাছে বেঁধে মাকে ধর্ষণ: সেই ৫ আসামির বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন