শরীয়তপুরে জব্দকৃত ২২০০ লিটার ডিজেল উধাও!

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৪১ পিএম


শরীয়তপুরে জব্দকৃত ২২০০ লিটার ডিজেল উধাও!
ছবি: প্রতিনিধি

সারাদেশে যখন চলছে জ্বালানি তেলের সংকট, তখন শরীয়তপুরে ঘটে গেছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় খোদ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা ৭ হাজার লিটার ডিজেলের মধ্যে ২ হাজার ২০০ লিটার রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। নিলামে বিক্রি ও আনলোডের সময় এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

জানা যায়, গত ৩১ মার্চ রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারে অভিযান চালিয়ে মজুত করার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে আনা ৭ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। জব্দকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক, নড়িয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস জানান, বরিশাল থেকে অবৈধভাবে শরীয়তপুর নিয়ে আসা ৭ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত তেল নিলামে বিক্রি করা হবে।

আরও পড়ুন

পরে জব্দকৃত তেল নড়িয়া থানায় নিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নিলামে তোলা হলে শরীয়তপুরের মনোহর মোড়ের মেসার্স আ. জলিল ফিলিং স্টেশন ৭ লাখ টাকায় তা ক্রয় করেন। 

তবে লরি থেকে তেল আনলোড করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে মাত্র ৪৮০০ লিটার ডিজেল। বাকী প্রায় ২২০০ লিটার ডিজেলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘাটতি অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দিয়েছে।

প্রশাসনের জিম্মায় থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ তেল কীভাবে উধাও হলো— এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলের খুব কাছেই একটি তেলের ডিপোতে তেল পরিমাপের সুযোগ থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে করা হয়নি। তবে ওইদিন রাতেই উধাও হওয়া প্রায় ২২০০ লিটার ডিজেল স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস বলেন, আমরা অভিযানের সময় যে পরিমাণ তেল পেয়েছি, তাই নিলামে বিক্রি করেছি। তিনি এ বিষয়ে আরও বলেন, এটা খুঁজতে আমি বাধ্য নই। 

অন্যদিকে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, ইউএনও অফিসে তেলের গাড়ি রাখার জায়গা না থাকায় থানার মধ্যে তেলবাহী লরিটি রাখা হয়। কিন্তু অফিসিয়ালভাবে পুলিশের জিম্মায় তেলবাহী লরিটি দেওয়া হয়নি। লরিতে কী পরিমাণ তেল ছিল, সে ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, উপজেলার ভোজেশ্বর বাজার থেকে একটি লরি ভর্তি ৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়। লরিটি নড়িয়া থানায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু নিলামে বিক্রির পর দেখা যায় সেখানে ২২০০ লিটার তেল কম। আমরা এ ব্যাপারে তদন্ত করছি। তেল সরানোর সঙ্গে কোন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরটিভি/এমআই 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission