ফরিদগঞ্জে মধ্যরাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল একের পর এক দোকানঘর। এতে সর্বস্বান্ত ছয়টি পরিবার। তাদের চিৎকার-আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এতে অন্তত অর্ধকোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) গভীর রাতে ফরিদগঞ্জের ১৪ নম্বর দক্ষিণ ইউনিয়নের কালির বাজারে ঘটে এ অগ্নিকাণ্ড।
এ সময় স্থানীয়রা আগুন নেভাতে এলে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু আগুন থামলেও ক্ষতির আগুন যেন এখনো জ্বলছে ক্ষতিগ্রস্তদের বুকের ভেতর।
খবর পেয়ে ছুটে আসেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কারো চোখে পানি, কারো মুখে হতাশা।
লেপ-তোষকের দোকানের মালিক আবুল কালাম ছাইয়ের স্তুপে বসে কাঁদছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এই দোকানটাই ছিল আমার সব। ঋণ করে মাল তুলছিলাম। এখন আমি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো?
কসমেটিকস ব্যবসায়ী কিরণ চন্দ্র দাসের চোখে যেন শূন্যতা। তিনি জানান, ৩০ বছর ধরে এই বাজারে আছি। এমন অসহায় কখনো হইনি। এক রাতেই সব শেষ...
ফলের দোকানি মিঠু মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিলেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ছেলেটি কিছুই বুঝতে না পেরে শুধু বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে এ দৃশ্য যেন আরো ভারী করে তোলে বাতাস।
দোকানের শরীফ আহমেদ, কনফেকশনারি ব্যবসায়ী আনেয়ার, আর গার্মেন্টস ও জুতার দোকানি মহসীন পাটওয়ারী সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে। কারো চোখে পানি, কারো চোখে অজানা ভবিষ্যতের ভয়।
কালির বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সদস্য জাকির খান ক্ষোভ আর আতঙ্ক মিশ্রিত কণ্ঠে বলেন, এটা নতুন কিছু না। বারবার আগুন লাগে। গত ১০ বছরে ৮-১০ বার এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা কি তাহলে আগুনের ভয়ে ব্যবসা করব না?
তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যবসায়ী এখন এই বাজার ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তা করছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কোথায় যাবেন তারা? কি দিয়ে আবার শুরু করবেন?
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এই ব্যাখ্যা যেন কোনো সান্ত্বনা নয়। তাদের একটাই প্রশ্ন “আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে কে?” আজ কালির বাজারে গেলে দেখা যায়—আগুন নিভে গেছে, কিন্তু ছাইয়ের স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে আছে কিছু মানুষ, যারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না—
তাদের জীবনটা সত্যিই এভাবে পুড়ে গেছে।
আরটিভি/এমএম




