সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, এমন অভিযোগ তুলে জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ধারাবাহিক প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেরপুর-৩ (শ্রীবরর্দী-ঝিনাইগাতি) আসনের নির্বাচনি সহিংসতায় আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের ঘটনার পরও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতা বন্ধ হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদে জনগণের করের অর্থ ব্যয় করে অশালীন বক্তব্য ও অকার্যকর বিতর্ক চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ সংসদে গেলে জনগণের কল্যাণে তার কাছ থেকে কিছুই প্রত্যাশা করা যায় না।
শেরপুর-৩ আসনের সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার কারণে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচনও সহিংসতার কারণে স্থগিত করা হয়। ওই সময় জামায়াতের স্থানীয় নেতা মৌলানা রেজাউল করিম নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন, যাদের অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও জানান, স্থগিত নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত ভোটেও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এতে একজন নিহত হন এবং একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন বয়স্ক ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকলেও বর্তমানে তার জ্ঞান ফিরেছে বলে জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সহিংসতা ছিল, তবে এখন সময় এসেছে সহনশীল ও মানবিক রাজনীতি চর্চার। তার ভাষায়, রাজনীতি হবে ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক—অস্ত্রের নয়, আদর্শের লড়াই।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে, যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয়।
আরটিভি/এমআই



