কক্সবাজার সীমান্তে পৃথক অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একদিনে সর্বমোট ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে, যা বাহিনীটির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান জব্দের ঘটনা। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোররাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) বিশেষ অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত হলে থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, একদল চোরাকারবারি নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
এ সময় বিজিবির হ্নীলা বিওপির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৌশলগতভাবে অ্যাম্বুশ স্থাপন করে। উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা ইয়াবার চালান ফেলে দিয়ে নাফ নদীতে ঝাঁপিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১৩টি প্যাকেট থেকে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, একইদিন দুপুরে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এর আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক, জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও সার পাচার রোধে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। গত দুই মাসে উখিয়া ব্যাটালিয়ন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কেজি সারসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার প্রতিরোধ করেছে।
সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/এমএইচজে




