ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় নেতাকর্মীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দলের উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক নাজমুল হককে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এনসিপির এক নেতা বাদী হয়ে দলের এক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে সমন্বয়কে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।
এর আগে, শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ধামরাই থানায় এস এম শামিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার নাজমুল হক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধামরাই উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন— ইসরাফিল ইসলাম খোকন (৩৪), নাজমুল হক (২৮), সরোয়ার জাহান সিদ্দিক (২২), সামিউল ইসলাম লিমন (২২), আসাদুল ইসলাম মুকুল (৩২), মেহেদী হাসান হৃদয় (২৬), অ্যাডভোকেট শাওন (৩০), আমানউল্লাহ শিব্বির (২৬), রনি আহমেদ (২৬), মুফতি শহীদুল্লাহ শুয়াইব (৩৩), জুলকার নাইন (৪২), আশিকুর রহমান (২৫), নাসিরুদ্দিন লিটন (২৫), এসপি জাহিদ (২৪), আরাফাত আমিন বর্ষণ (২৪) এবং অজ্ঞাত অন্তত পাঁচজনসহ মোট ২০ জন।
এর মধ্যে আসাদুল ইসলাম মুকুল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং অন্যরা ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বিকেলে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং ও অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একপর্যায়, আসাদুল ইসলাম মুকুল, অ্যাডভোকেট শাওনসহ কয়েকজনের নির্দেশে একদল নেতাকর্মী হাতুড়ি, কাঠের টুকরা, ইট ও রড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে হামলা চালায়। তারা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে, টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করে এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এ সময় একজন শহীদ পরিবারের সদস্যকেও মারধর করা হয়।
হামলায় এমদাদ নামে একজনকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাদী এস এম শামিউর রহমানকেও মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয় এবং তার স্বর্ণের আঙটি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ আল মামুন বলেন, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আরটিভি/টিআর



