সারাদেশের মতো দক্ষিণের জেলা বরগুনাতেও ছড়িয়ে পড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। এখন পর্যন্ত জেলার দুইশোরও বেশি শিশুর মধ্যে পাওয়া গেছে হামের উপসর্গ। এর মধ্যে প্রাণ গেছে তিন শিশুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
রোববার (১২ এপ্রিল) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
সে অনুযায়ী, চলতি বছরে বরগুনায় এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ২২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৯৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮, বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ এবং অন্যান্য হাসপাতালে ৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল সিভিল সার্জন কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলায় তিন শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে সদর উপজেলার দুইজন এবং পাথরঘাটা উপজেলার একজন।
অবশ্য, আক্রান্তদের মধ্যে ১৭৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সরেজমিনে বরগুনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের পাশাপাশি কয়েকজন বয়স্ক রোগীকেও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। এ ব্যাপারে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, হামের ভাইরাস বায়ুবাহিত হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালের নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। জেলায় ২৭ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে ১৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
জটিল পরিস্থিতি এড়াতে হামের উপসর্গ দেখামাত্রই দেরি না করে আক্রান্তদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।
আরটিভি/এমএস/এসএইচএম




