শরীয়তপুর সদরের আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে পাচারের সময় ট্রাকভর্তি ৪০০ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। পরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ চালগুলো জব্দ করে সিলগালা করে গুদামে সংরক্ষণ করেছে। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির (ভারপ্রাপ্ত) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৪০০ বস্তা সরকারি চাল আটক করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অভিযোগ ওঠে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার প্রতিনিধির মাধ্যমে কাগজপত্র দেখিয়ে শরীয়তপুর সদর এলএসডি থেকে চালগুলো বের করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আংগারিয়া এলএসডির মজুদ খাদ্যশস্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাইসহ চাল কীভাবে এবং কোন খাতে গুদাম থেকে বের হয়েছে, তা তদন্তের প্রয়োজন দেখা দেয়।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে গোসাইরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তরিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক, জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রাশেদ উজ্জামান খানকে সদস্যসচিব এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিলযুক্ত ৪০০ বস্তা চাল কোটাপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের পালং মডেল থানার কাছে পৌঁছালে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকটি আটকান। এ সময় চালক ও হেলপার দাবি করেন, চালগুলো ওজনের জন্য প্রেমতলা এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তবে তারা খালাস আদেশ (এলইউএ), বিলি আদেশ (ডিও) ও রিকুইজিশনের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে ট্রাক ফেলে পালিয়ে যান।
পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে একটি চালানফরম দেখিয়ে জানান, চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রুদ্রকর ইউনিয়নের এক ডিলারের নামে বরাদ্দ ২৪ মেট্রিক টন চালের অংশ। তবে ঘটনাস্থলেই ওই ডিলার চালগুলো তার নয় বলে দাবি করলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও দীর্ঘ সময়েও কেউ ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ ট্রাকসহ চালগুলো পালং মডেল থানায় নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই চালানফরম দেখিয়ে একটি পক্ষ চাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা পুনরায় চৌরঙ্গী এলাকায় ট্রাকটি আটকে দেন।
রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ আলম ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়েন। পরে রাত ২টার দিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ট্রাকসহ চালগুলো আংগারিয়া খাদ্য গুদামে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান আল নাজির ও মহিউদ্দিন বেপারী বলেন, দুপুরে চাল আটক করা হলেও দীর্ঘ সময় প্রশাসনের কেউ দায়িত্ব নেননি। পরে কীভাবে চালগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তা নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, ট্রাকসহ ৪০০ বস্তা চাল জব্দ করে সিলগালা করে আংগারিয়া খাদ্য গুদামে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে চাল খালাস করে আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/টিআর



